৩৫ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সমবায় সমিতির পরিচালক

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে সাধারণ মানুষের অন্তত ৩৫ কোটি টাকা নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন ‘যমুনা বহুমুখী সমবায় সমিতি’র পরিচালক স্থানীয় এক কলেজের শিক্ষক আকবর আলী। সমিতিতে জমানো সঞ্চয় হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রায় আড়াই হাজার সদস্য। যাদের অধিকাংশই প্রত্যন্ত এলাকার নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। অসহায় এসব সদস্য টাকা ফিরে পেতে চাইছেন প্রশাসনের হস্তক্ষেপে।

দেওয়ানগঞ্জের হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের কাঁঠারবিল এলাকা ঘুরে জানা যায়, ২০০৬ সালে সমবায় সমিতির নিবন্ধন করেন কলেজ শিক্ষক আকবর  হোসেন। এরপর দুই দফা নাম ও স্থান পরিবর্তন করে ২০১১ সালে কাঁঠারবিল বাজারে যমুনা বহুমুখী সমবায় সমিতির কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। জমিজমা, গরু বিক্রি ও দিনমজুরি করে সমিতিতে টাকা জমিয়েছিলেন সমিতিটির প্রায় আড়াই হাজার সদস্য। গত কয়েক মাস ধরে সমিতি থেকে নিয়মিত মুনাফা না দেওয়ায় সদস্যরা সঞ্চয় ফেরত চাইলে টাকা দিতে গড়িমসি করেন সমিতির পরিচালক আকবর হোসেন। পরে সদস্যদের প্রায় ৩৫ কোটি টাকা নিয়ে এক মাস আগে আত্মগোপন করেন তিনি।

জীবনের সব উপার্জন হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সদস্যরা। এ বিষয়ে জানতে কাঁঠারবিল বাজারে সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। সমিতির পরিচালক স্থানীয় কলেজ শিক্ষক আকবর হোসেনকে অনুপস্থিত পাওয়া যায় তার কর্মস্থল দেওয়ানগঞ্জ এম এম মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজেও। বন্ধ পাওয়া যায় তার মুঠোফোন নম্বরও।

কাঁঠারবিল এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকার জানান, ভবিষ্যতের প্রয়োজনে জীবনের সব সঞ্চয় প্রায় ৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জমা রেখেছিলেন যমুনা বহুমুখী সমবায় সমিতিতে। হঠাৎ মারণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হলে সমিতিতে নিজের জমানো টাকা তুলতে যান তিনি। কিন্তু দিনের পর দিন ঘুরেও টাকা তুলতে না পেরে চিকিৎসা করতে পারছেন না। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন তিনি।

দক্ষিণ কাঁঠারবিল এলাকার বিধবা মালেকা বেগম জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর  ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে যমুনা বহুমুখী সমবায় সমিতির সদস্য হন তিনি। টাকা জমিয়ে মেয়ের বিয়ের পরিকল্পনা ছিল তার। সবশেষ গত নভেম্বরে গরু বিক্রি করে ৩০ হাজার টাকা জমা দেন তিনি। কিন্তু এরপর থেকে মুনাফা দেওয়া বন্ধ করে দেয় সমিতি কর্র্তৃপক্ষ। সম্প্রতি মেয়ের বিয়ের জন্য তার জমানো ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা তুলতে গেলে নানা টালবাহানা করে সমিতির কর্মীরা। পরে জানতে পারেন সদস্যদের টাকা নিয়ে পালিয়েছেন পরিচালক আকবর।

একই গ্রামের বনেজ উদ্দিনের স্ত্রী হালিমা বলেন, “জমি ও গরু বিক্রি করে ৮ লাখ টাকা জমা রেখেছিলাম। এখন টাকা চাইতে গেলে সমিতির কর্মীরা বলে ‘পরিচালক আকবরকে ধরে এনে’ টাকা নিতে।”

এম এম মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ আনিছুর রহমান চৌধুরী জানান, তার কলেজের শিক্ষক আকবর হোসেন ছুটিতে আছেন। কিন্তু কবে থেকে, কত দিনের ছুটিতে আছেন সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

সমিতির হিসাররক্ষক আবদুল গফুর জানান, সমিতির টাকা-পয়সার সব হিসাব পরিচালক আকবর হোসেনের কাছে। পরিচালক আকবর হোসেন সম্পত্তি বিক্রি ও মাঠের ঋণের টাকা তুলে সদস্যদের আমানত ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন বলেও তিনি জানান।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক জানান, যমুনা বহুমুখী সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য সমবায় কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।