নানা রকমের ক্লান্তি

রাতে পুরো সময় ঘুমানোর পরও ক্লান্তিভাব কাটতে চায় না। সাধারণত খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার প্রভাবেই এমন হয়। এই প্রভাব কাটাতে হলে আগে বুঝতে হবে ক্লান্তির ভাষা।

কর্মশক্তিতে তারতম্য : কাজের ফাঁকে কাজের গতি বৃদ্ধির জন্য যারা বারবার চা, কফি বা চিনিযুক্ত কোনো পানীয় পান করেন এবং বিকেলের দিকে যদি তাদের শরীরে ক্লান্তি বেশি ভর করে, তবে রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করানো উচিত দ্রুত। কারণ চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে কর্মশক্তি বাড়ালেও ধীরে ধীরে এর প্রভাব শেষ হয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে শরীর। রক্তে যদি শর্করার মাত্রা বারবার পরিবর্তিত হয়, তবে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অনিদ্রা, অমনোযোগিতা ও খিটখিটে মেজাজ রক্তে শর্করার ভারসাম্য পরিবর্তনের লক্ষণ।

এ সমস্যা কমাতে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় প্রোটিন রাখতে হবে। দুই ঘণ্টা অন্তর অন্তর হালকা খাবার খেতে হবে।

উদ্যমের কমতি : শরীর যদি বেশি দুর্বল হয় এবং কাজের স্পৃহা না থাকে, তবে এমন হতে পারে আয়রন অথবা লৌহের অভাবে। আয়রন মস্তিষ্কের কোষে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। কর্মশক্তি তৈরির জন্য যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন, তা পর্যাপ্ত পরিমাণে শরীরের কষে পৌঁছায় না বলে আয়রনের অভাবে শরীর দুর্বল লাগে। 

এ সমস্যা সমাধানে মাংস, সবুজ শাকসবজি, ডাল, বাদাম ইত্যাদি খাওয়ার পরিমাণ বাড়াতে হবে।

ক্লান্ত শরীর, সক্রিয় মন  : এমন অনুভূতির জন্য দায়ী হতে পারে অতিরিক্ত কফি পান। ‘ক্যাফেইন’ কিছু সময়ের জন্য কর্মশক্তি বাড়ালেও অতিরিক্ত গ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ সমস্যা দূর করতে কফির পরিবর্তে ভেষজ চা পান করলে উপকার মিলবে।