দুর্গাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় বিক্ষোভ

নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কে ট্রাক চাপায় পিকআপভ্যান যাত্রী ৪ এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।

শনিবার রাতে পিকনিক থেকে ফেরার পথে ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর উপজেলার শালীহর এলাকার আরশাদুল, ইয়াসিন, হৃদয় ও মাহবুব নিহত হন।

চারজনের মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলে, একজন দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং আহতদের মধ্যে শাহিন, আলামিন ও মাহবুবকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে মাহবুব মারা যায়। 

এ ঘটনায় রবিবার সকাল থেকে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা।

গতিনিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে নেত্রকোনার সীমাবর্তী উপজেলা দুর্গাপুরের পর্যটন শিল্প ও খনিজ সম্পদকে প্রাধান্য দিয়ে গত বছর সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় শ্যামগঞ্জ থেকে বিরিশিরি পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয় গত অর্থ বছরে। তিনশত ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি নির্মাণে অনেকটাই স্বস্তি ফিরে পর্যটকসহ স্থানীয়দের মাঝে।

কিন্তু সড়কটি ভালো হওয়ার পর থেকে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর বালু ব্যবসায়ীরা।

প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অতিরিক্ত বালু পরিবহন করে চলাচল করে কয়েক হাজার ট্রাক ও লরি। অদক্ষ ড্রাইভারের বেপরোয়া গতি ও ওভার ট্র্যাকিংয়ের ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা।

সড়কটির দু'পাশে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও নেই কোন গতি প্রতিরোধক ব্যবস্থা। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ গুরুত্বপূর্ণ বাজার গুলোতে গতি প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ভুক্তভোগীদের। চালকদের অদক্ষতার কারণেই সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে বলে জানান সড়ক ও জনপথ বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার।

গতিনিয়ন্ত্রণে স্পিডগান বসানোর উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী। গতি রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম।