পটুয়াখালীর মহিপুর প্রেসক্লাব সভাপতি ও জিটিভির কুয়াকাটা প্রতিনিধি মনিরুল ইসলামের ওপর হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সন্ধ্যায় মহিপুরের আমতলায় এ হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
মহিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মালেক আকনের ছেলে মহিপুর শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি সোহাগ আকনসহ ‘কালা বাহিনী’ এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হন সাংবাদিক মনিরের ছেলে শিহাব (১৭) ও তার ব্যবসার পরিচালক মনির খান। তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয় স্মার্টফোন ও ভিডিও ক্যামেরা।
মনিরকে গুরুতর আহতাবস্থায় অবস্থায় প্রথমে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয় হয়।
সাংবাদিক মনির জানান, তার ওপর হামলাকারী সোহাগ-আকন ২০১৪ সালে নারী পর্যটকদের শ্লীলতাহানি, মারধরসহ ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়। ওই ঘটনার সংবাদ পরিবেশন করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সোহাগ আকন বিভিন্ন সময় হয়রানি করে আসছিল। সোহাগ আকন আমার ব্যবসায়িক কাজে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল।
তিনি জানান, মহিপুর এলাকায় আমার বালুর ব্যবসা আছে। সম্প্রতি সোহাগ আকন আমার ব্যবসার পরিচালক মনির খানের কাছে চাঁদা দাবি করেন। এরপর শনিবার রাত ৮টার দিকে সাংবাদিক আমি, আমার ছেলে শিহাব ও মনির খান মহিপুর আমবাগান এলাকায় গেলে সোহাগ আকন তার দলবল নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। মনির খানকে বাঁচাতে গেলে ‘কালা বাহিনীর’ সদস্যরা আমার ওপর হামলা চালিয়ে মোবাইল ও ক্যামেরা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ সময় কালাবাহিনীর হামলায় সাংবাদিক আমার ছেলে শিহাব গুরুতর জখম হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন, বর্তমানে কালাবাহিনীর সদস্যরা ফের বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা অবাধে চাঁদাবাজিসহ বীর দর্পে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সোহাগ আকন তার ওপর আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলম জানান, অভিযোগ পেয়েছি। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলেছে।