আদালতে হাজিরার পর নিখোঁজ যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ

আদালতে হাজিরা শেষে তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর সোনাগাজীর যুবলীগকর্মী মাহফুজ রহমান সুজনের গুলিবিদ্ধ লাশ মিলল ছাগলনাইয়াতে। তিনি সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের চরকৃষ্ণজয় গ্রামের জাহাংগীর আলমের ছেলে।

ছাগলনাইয়ায় থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাহবুবুর রহমান জানান, মধ্যরাতে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের উত্তর আঁধার মানিক গ্রাম এলাকায় দুটি ডাকাত দলের মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশ ওই এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় এক যুবককে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একনলা বন্দুক ও দুটি গুলি উদ্ধার করেছে।

বৃহস্পতিবার একটি মামলায় হাজিরা শেষে সুজনসহ তিনজন নিখোঁজ হন। সুজন নিখোঁজের ঘটনায় তার মা ফুলরা বেগম সোনাগাজী মডেল থানায় শুক্রবার নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এর আগে তার সঙ্গে নিখোঁজ অপর দুজন শরিফ ও নিশানেরও গুলিবিদ্ধ লাশ শুক্রবার সোনাগাজী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

ফেনী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. ইকবাল হোসেন ভূঁঞা জানান, রাতে পুলিশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার শরীরে গুলির চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই ওই যুবক মারা যান।

ছাগলনাইয়ায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দুই ডাকাত দলের মধ্যে গোলাগুলিতে একজন নিহত ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় পৃথক মামলা হয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সোনাগাজী উপজেলার উত্তর মঙ্গলকান্দি গ্রামে গোলাগুলির ঘটনায় দুই যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। পুলিশ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ কথা বললেও ওই দুই যুবকের পরিবার জানিয়েছিল, বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি ডাকাতির মামলায় ফেনী আদালতে হাজিরা দেওয়ার পর নিখোঁজ হন তারা।

প্রায় এক বছর আগের ওই ডাকাতির মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয় কয়েকজনকে।