ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে বাংলাদেশি হত্যা বাড়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে তা বন্ধে উদ্যোগ নিতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। গতকাল সোমবার শ্রিংলা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে এ আহ্বান জানান তিনি। বৈঠক শেষে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বললাম, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম (ভারত-বাংলাদেশ) আমাদের জিরো কিলিং হবে বর্ডারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ বছরে কিলিংটা অনেক বেড়ে গেছে, এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক। আমি বললাম, আপনারা আমাদের বন্ধু মানুষ। এ বন্ধুদের মধ্যে কিলিং হওয়া ঠিক নয়।’ জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সীমান্তহত্যা বন্ধে চেষ্টা চালানোর আশ্বাস দিয়েছেন জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উনি বললেন যে উনারা ট্রাই করবেন, এটা যাতে না হয়।’
বাংলাদেশ-ভারত আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বরাবরই আসে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড। ২০১১ সালে বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানীকে হত্যার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছিল। এরপর দুই দেশের আলোচনায় সীমান্তে হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতি আসে। তবে দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও বিষয়টির উন্নতি হয়নি। গত মাসের শুরুতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানায়, চলতি বছরের দেড় মাসে সীমান্তে ১১ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আবদুল মোমেন বলেন, ‘আমি বললাম, আপনারা (ভারত) বললেন যে, সবকিছু রেডি আছে, কিন্তু এখনো এটা শেষ হলো না। উনি (শ্রিংলা) বললেন, মোটামুটি এটাতে অসুবিধা আছে উনাদের, কিন্তু আশা করছি, এটা আগামীতে হবে। আমি বললাম যে, আমাদের জবাবদিহি আছে, আমরা একটি নির্বাচিত সরকার। গণতান্ত্রিক সরকার, মানুষ আমাদের এগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তোমাদের বন্ধুত্ব, কিন্তু কাজ হচ্ছে না তো।’
তিস্তার বাইরে অন্য ছয়টি নদীর পানি বণ্টন নিয়ে মোদির সফরে চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনার কথা শ্রিংলা বলেছেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘উনি বললেন যে, আরও কয়েকটি নদী আছে, সেটা আমরা মোটামুটি ফাইনালাইজড করে ফেলেছি এবং আশা করছি প্রধানমন্ত্রী মোদি এলে পরে চূড়ান্ত হবে। আপনারা গতবারে আমাদের ফেনী নদীর কিছু সাহায্য করেছেন এবং এখন ভারতের প্রয়োজন আপনাদের সাহায্য করা। বললাম, দিস ইজ গুড। উনি বললেন, এবার আমরা আপনাদের প্রতিদান দিতে চাই।’ ভারতের নাগরিকত্ব বিল নিয়ে চলমান সহিংসতার বিষয়টি আলোচনায় তোলার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, ‘আপনাদের দেশের অনেক ইস্যু আছে, যেগুলো আমাদের দেশে সময়ে সময়ে চিন্তার কারণ হয়। উদ্বেগ আমাদের জনগণও করে এবং সে জনগণের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হয়। সেসব সম্পর্কে আমরা চাই তোমরা এমন কোনো কাজ করবা না, যাতে আমাদের অসুবিধার সৃষ্টি হয়। উনি (শ্রিংলা) বললেন, ইস্যুগুলো কোনোভাবে বাংলাদেশকে অ্যাফেক্ট করবে না। ইস্যুগুলো অল্পদিনের জন্য, উনি জাস্টিফাই করতে চাইলেন, এগুলো কেন করার দরকার পড়ল।’’