যশোর উপশহরের যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ইমরান খান ছাপ্পানের (৪৫) মরদেহ নড়াইল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ছাপ্পান উপশহর বি ব্লক ১৪৮ নম্বর বাড়ির মৃত ওমর আলীর ছেলে। তার পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেছে। তাদের দাবি সোমবার রাতে যশোরের পুলিশ ছাপ্পানকে আটক করে।
তবে পুলিশ তা স্বীকার করেনি।
পুলিশ জানায়, নড়াইলের পুলিশ প্রথমে অজ্ঞাত হিসাবে লাশ উদ্ধার করলেও পরে জানতে তা যশোরের মাদক কারবারি ছাপ্পানের। তার পরিবারের লোকজন মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে সংবাদ পেয়ে নড়াইল সদর হাসপাতালে গিয়ে ছাপ্পানের লাশ শনাক্ত করে।
নড়াইল সদর থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে লোক মারফত জানতে পাই যশোর-নড়াইল সড়কের সীমান্তবর্তী সীতারামপুর ব্রিজের নিচে একটি লাশ পড়ে আছে। পুলিশ পাঠিয়ে সেটি উদ্ধার করে অজ্ঞাত হিসাবে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। রাতে যশোর থেকে নিহতের পরিবারের লোকজন হাসপাতালে গিয়ে লাশ ছাপ্পানের বলে দাবি করে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়ে লাশটি ব্রিজের নিচে পড়ে ছিল বলে জানতে পারি।
তবে প্রকৃতপক্ষে কীভাবে ছাপ্পান মারা গেছেন তা তিনি বলতে পারেননি।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক) সার্কেল গোলাম রাব্বানী জানিয়েছেন, সোমবার গভীর রাতে ছাপ্পানকে আটকের জন্য উপশহর এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু তাকে আটক করা যায়নি। তার সহযোগী ইসমাইলকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করা হয়েছিল। ছাপ্পানের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় ১৬টি মামলা আছে।
ইমরান হোসেন ছাপ্পানের স্ত্রী ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেন, সোমবার রাত ১১টার দিকে পুলিশ ছাপ্পানকে ধরতে তাদের বাড়িতে আসে। এ সময় পুলিশ তাদের ঘরের মালামাল ভাঙচুর করে। তারপর ছাপ্পানকে ধরে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে তার স্বামী নিখোঁজ ছিলেন। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা খবর পান যে, নড়াইলের সীতারামপুরে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ পাওয়া গেছে। এ খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন সেখানে গিয়ে লাশটি ছাপ্পানের বলে শনাক্ত করেন। তারা সেখান থেকে লাশটি নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন।
ছাপ্পান যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।