টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে টাকা না পেয়ে মাদকাসক্ত ছেলে তার কথিত স্ত্রীর সহায়তায় বৃদ্ধ বাবাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বাগজান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম নুরুল হক (৭০)
ঘটনার পরপরই মাদকাসক্ত ছেলে লাভলু পালিয়ে গেলেও পুলিশ তার কথিত স্ত্রী রোকেয়াকে রাতেই গ্রেপ্তার করে। সে উপজেলা জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে মাদকাসক্ত ছেলে লাভলু (৩০) জেল থেকে জামিনে বের হয়। এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি লাভলুর মায়ের দায়ের করা মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।
জামিন পাওয়ার পর লাভলু তার কথিত স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি গিয়ে বাবার কাছ থেকে জামিনের খরচ বাবদ ২০ হাজার টাকা দাবি করে। বৃদ্ধ বাবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লাভলু কথিত স্ত্রী রোকেয়ার সহযোগিতায় তাকে লাঠি দিয়ে বেধম পেটায় এবং শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যায়। রাতে মির্জাপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে রোকেয়াকে গ্রেপ্তার করে।
এলাকাবাসী জানায়, লাভলু দীর্ঘদিন যাবত মাদকাসক্ত। বিভিন্ন সময় মাদকের টাকার জন্য বাবা-মাকে চাপ দিত। মাদক সেবন করতে করতে তার সঙ্গে পরিচয় হয় পাকুল্যা গ্রামের রফিকের মেয়ে রোকেয়ার। রোকেয়াও একজন মাদকসেবী। লাভলু তাকে নিজের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময় বাড়িতে নিয়ে আসত। ছেলের অত্যাচার এবং মাদক সেবনের মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে মা তার বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় ২৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
ভাতগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, মাদকাসক্ত ছেলে বৃদ্ধ বাবার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। বাবা টাকা দিতে না পারায় কথিত স্ত্রীর সহযোগিতায় বাবাকে হত্যা করে।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সায়েদুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে মাদকাসক্ত ছেলে লাভলু জেল থেকে বেরিয়ে বাবার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। বাবা টাকা দিতে না পারায় মাদকাসক্ত কথিত স্ত্রী রোকেয়ার সহযোগিতায় বাবাকে নির্যাতন করে। একপর্যায়ে তিনি মারা যান। রাতেই রোকেয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছেলে লাভলুকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে তিনি জানান।