জমি বিরোধে গৃহবধূ হত্যা: ভোলায় ৩ জনের ফাঁসি, ২ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ০২:০০ এএম

ভোলার চরফ্যাশনে আলোচিত গৃহবধূ বকুল বেগম হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার বিভিন্ন ধারায় আরও কয়েকজনকে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২৪ মে) দুপুরে চরফ্যাশন চৌকি আদালতে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. শওকত হোসাইন এ রায় ঘোষণা করেন। 

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর রাতে চরফ্যাশনের দুলারহাট থানার মুজিবনগর ইউনিয়নের শিকদারের চর এলাকার নিজ বাড়ির বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলেন গৃহবধূ বকুল বেগম। এ সময় জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। হামলায় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা বড় বোন মুকুল বেগম গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে দুলারহাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আব্দুল মালেক পণ্ডিত, মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও আব্দুল মান্নানকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া একই ধারায় মোহাম্মদ সেলিম ও মোহাম্মদ রফিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এদিকে অপরাধীদের পালাতে সহযোগিতা করার দায়ে দণ্ডবিধির ২১২ ধারায় মোহাম্মদ জসিম, মোহাম্মদ ফিরোজ ও মোহাম্মদ সোহাগকে ৩ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

একই মামলায় দণ্ডবিধির ২০৩ ধারায় মোহাম্মদ আলম বাচ্চু মেলকারকে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১১০ ও ৪৩৬ ধারায় মোহাম্মদ কবিরকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামি আজাদকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। তার বিরুদ্ধে জারি করা পূর্বের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির সাজা অনুমোদনের জন্য মামলার নথিপত্র দ্রুত হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার আলামত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তি এবং আদায়কৃত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার আদেশও দেওয়া হয়।

চরফ্যাশন আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট হযরত আলী হিরণ বলেন, ‘দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই রায়ে নিহত পরিবারের বিচার নিশ্চিত হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত