ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে কেরালায়ই প্রথম করোনা আতঙ্ক দৃশ্যমান হয়েছিল। চলতি বছর ফেব্রুয়ারির শুরুতে রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণাও করা হয়। তবে ঠিক এখন ভারতজুড়ে এ ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়ালেও কেরালার পরিস্থিতি স্বাভাবিক। অবশ্য এর জন্য রাজ্য সরকারের বেশকিছু উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, কেরালার সেসব উদ্যোগ ভারতসহ বিশ্বের মানুষের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে, করোনাভাইরাস আতঙ্ক দূর করতে কেরালা সরকারের নেওয়া ব্যবস্থাগুলো
বিমানবন্দর ও সড়ক পথে স্ক্রিনিং : কেরালায় ঘুরতে আসা প্রত্যেক বিদেশিকে বিমানবন্দর থেকে একটি স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হয়। এরপর বিশেষ ডেস্কে নিয়ে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। সেই প্রতিবেদন তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল ও মেডিকেল অফিসে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। এ ব্যবস্থা নেওয়া হয় সড়কপথেও।
পঞ্চায়েতের জন্য নির্দেশ জারি : রাজ্যটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে রাজ্যের পঞ্চায়েত পর্যায়ের সংস্থাগুলোর জন্য একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয় ভাইরাসে আক্রান্ত স্থান থেকে আগতদের এবং তাদের কাছাকাছি থাকা মানুষের তালিকা তৈরি করতে হবে।
সচেতনতা তৈরি : মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিতভাবে ক্যাম্পেইন চালু রেখেছিল কেরালা সরকার। কাশি বা হাঁচির সময় নাক ও মুখ ঢাকার পাশাপাশি সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন মানুষের সঙ্গে হাত মেলানো বা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানায় সরকার।
সংক্রমণ প্রটোকল : বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, ল্যাব ও পরামর্শ কেন্দ্রকে সরকারের দেওয়া প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মানুষের করোনা ভীতি দূর করতে প্রায় ২১৫টি মানসিক স্বাস্থ্য দল কাজ করছে।
পুনঃপরীক্ষা : ভাইরাস প্রতিরোধে রাজ্যের সব জেলার ব্লাড ব্যাংকগুলো বাধ্যতামূলকভাবে সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তারা রক্তদাতাদের ডাবল স্ক্রিনিং শুরু করেছে এবং যারা বিদেশ ঘুরে এসেছেন তাদের রক্ত নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
গুজব প্রতিরোধ : কেরালার জেলা পুলিশপ্রধানরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছেন।