বরিশালে নিজের সরকারি অস্ত্রের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে পুলিশ কনস্টেবল হৃদয় চন্দ্র সাহা (২১)। প্রেমঘটিত ঘটনায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
শুক্রবার বেলা ১১টার পর পুলিশ লাইনসের ছাদ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে কোতয়ালী থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার পর যে কোনো সময় জেলা পুলিশ লাইনসের নবনির্মিত ৬তলা ব্যারাক ভবনের ছাদে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হৃদয় চন্দ্র সাহা ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার চকদোষ গ্রামের সুকণ্ঠ চন্দ্র সাহার ছেলে। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়।
পুলিশ জানায়, হৃদয় ১ বছর ৩ মাস আগে পুলিশ কনস্টেবল পদে যোগ দেন। তার কর্মস্থল ছিল বরিশাল জেলা পুলিশ লাইনসে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি জেলা পুলিশ লাইনসের ২নম্বর গেটে সেন্ট্রি ডিউটিতে নিয়োজিত ছিলেন।
নিহতের পকেটে তিনটি চিরকুট পাওয়া যায়। এর একটিতে সবার উদ্দেশ্যে তিনি লিখেছে- ‘তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়’। আরেকটিতে লিখেছেন- ‘বাবা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলাম’। তৃতীয় চিরকুটে তিনি ছোট ভাইকে তাদের ‘বাবাকে দেখভাল করার’ অনুরোধ জানিয়েছেন।
বরিশাল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নাঈমুল হক জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কনস্টেবল হৃদয়ের ২নম্বর গেটে সেন্ট্রি ডিউটি ছিল। এরপর ওই রাতের যে কোনো সময় ৬তলা ব্যারাক ভবনের ছাদে উঠে তিনি তার নামে ইস্যুকৃত চাইনিজ রাইফেল দিয়ে নিজের থুতনী বরাবর এক রাউন্ড গুলি করেন। গুলিটি তার মস্তিষ্ক ভেদ করে বের হয়ে যায়।
এ ঘটনার পর রাতভর তার মরদেহ পড়েছিল ব্যারাকের ছাদে। পাশেই পড়েছিল সরকারি অস্ত্রটি। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ওই ব্যারাক ভবনের অন্যরা ছাদে উঠে হৃদয়ের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে কর্মকর্তাদের জানায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, হৃদয়ের প্যান্টের পকেটে থাকা মানিব্যাগে এক তরুণীর ছবি যাওয়া গেছে। চাঁদপুরের ওই তরুণীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২/৩ দিন আগে ওই তরুণীর অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায়। এতে রাগে-ক্ষোভে ও দুঃখে হতাশাগ্রস্ত হয়ে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতয়ালী) মো. রাসেল বলেন, সুরতহাল শেষে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।