আগের ম্যাচেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী লিমিটেডের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হতে হয়েছিল। সেই হার ভুলে বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলে প্রিমিয়ার লিগে জয়ে ফিরল মোহামেডান।
কুমিল্লায় নিজেদের মাঠে শনিবার বসুন্ধরাকে ১-০ গোলে হারায় সাদা-কালোরা। পাঁচ ম্যাচে তিন জয় ও দুই হারে তাদের পয়েন্ট এখন ৯। সমান ম্যাচে কিংসের পয়েন্ট ১০।
২০ হাজার আসনের কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামের মাঠ নিয়ে সমালোচনা ছিল বেশ। অনেক অংশই ন্যাড়া, অসমান থাকায় আপত্তি জানিয়েছিল কিংস। বাফুফেও স্বীকার করে, শনিবারের ম্যাচের জন্য পুরোপুরি তৈরি করা যায়নি মাঠটি। এমন পিচেই তারকা সমৃদ্ধ কিংস আর ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানের খেলা দেখতে উৎসবে মেতে ওঠে কুমিল্লাবাসী।
পূর্ব গ্যালারির পুরোটাই রঙিন করে রাখে বসুন্ধরার সমর্থকরা। স্কুলের ছাত্ররা বসুন্ধরার জার্সি পরে এবং বাদ্য-বাজনা নিয়ে মাঠে এসেছিল। কিন্তু তাদের এই উৎসব থামিয়ে দেয় মোহামেডান খেলার ২৪ মিনিটেই। মিনিট দশেক আগে নাইজেরিয়ার ওবি মনেকের ক্রস মিস করে মালির সুলেমনা দিয়াবা। এবার বক্সের সামান্য বাইরে থেকে নিজেই জোরালো শট নেন মনেকে। কিংস গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোর মাথার ওপর দিয়ে বল জড়ায় জালে।
কিংসের দানিয়েল কলিনদ্রেসকে আটকে দেয় মোহামেডানের ডিফেন্ডাররা। ইব্রাহিম, বিশ্বনাথ ঘোষ দুই উইং দিয়ে আক্রমণে উঠেও গোলের দেখা পাননি। বরং প্রতি আক্রমণ থেকে সুলেমান বেশ কয়েকবার বসুন্ধরার বক্সে ঢুকেছেন। কিন্তু গোল করতে পারেননি।
দ্বিতীয়ার্ধে বসুন্ধরা ছিল আরও আক্রমণাত্মক। তবে সময় যত গড়িয়েছে তত চাপে পড়েছে বসুন্ধরা। আর সে চাপে মাঝে মধ্যে মেজাজ হারায় বসুন্ধরার ফুটবলাররা। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে চোটে পড়েন মোহামেডানের মাসুদ রানা। কিন্তু তাকে মাঠ থেকে দেরিতে বের হতে দেখে বসুন্ধরার ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ তেড়ে যান মাসুদের দিকে। প্রতিবাদে মনেকে জবাব দিলে তাঁকে ঘুষি মারেন বিশ্বনাথ। শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা থামাতে এগিয়ে আসেন রেফারি। বাকি সময়ে অবশ্য আর কোনো দল গোল করতে পারেনি।