পদ্মায় বউভাতের নৌকা ডুবির ঘটনায় ৬ জনের লাশ উদ্ধার

রাজশাহীতে বউভাতের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার সময় বর-কনেসহ দুটি নৌকা ডুবির ঘটনায় আরও দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই নৌকা ডুবির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬ জনে।  

শনিবার সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়রাও নৌকা ও জাল নিয়ে উদ্ধার কাজে নেমে পড়েন। পরে পর্যায়ক্রমে জেলেদের জালে উঠতে থাকে একের পর এক লাশ।

উদ্ধারকাজে অংশ নেয়া মাঝি আলতাব হোসেন বলেন, সকালে যখন দেখলাম কোন লাশ উদ্ধার হয়নি তখন নিজেদের জাল দিয়েই খোঁজা শুরু করি। রনি বলেন, আমি আজ ৩ টি লাশ পেয়েছি। সকাল থেকেই আমার জালের নিচে ইট বেঁধে এসব লাশ পাই। পরে তুলে নিয়ে আসি পাড়ে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার পদ্মার ওপারে পবা উপজেলার চরখিদিরপুর গ্রামের ইনসার আলীর ছেলে রুমন আলীর (২৬) সঙ্গে রাজশাহী শহর সংলগ্ন পবা উপজেলার ডাঙেরহাট গ্রামের শাহীন আলী মেয়ে সুইটি খাতুনের (২০) বিয়ে হয়।

শুক্রবার দুপুরের দিকে সুইটির আত্মীয়-স্বজনরা বর-কনেকে আনতে যায়। ফেরার পথে মাঝপদ্মায় নৌকা ডুবে যায়।

নৌ-পুলিশের রাজশাহী থানার ওসি মেহেদী মাসুদ জানান, সকালে চারঘাট থেকে মনি খাতুন (৩০) নামের এক নারীর লাশ পাওয়া যায়। দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলের পাশে একলাস আলী (২২) ও আড়াইটার দিকে রতন আলী (৩০) নামের দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে পানির নিচ থেকে শামিম হোসেন (৩৫) ও তার মেয়ে রশ্নি খাতুনের (৭) লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে শুক্রবার রাতেই রতন আলীর মেয়ে মরিয়মের (৬) লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া, জীবিত উদ্ধার হয়েছেন রতনের স্ত্রী বৃষ্টি খাতুন (২০)।

তবে এখনো তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। নিখোঁজরা হলেন- কনে সুইটি খাতুন, কনের ফুপাতো বোন রুবাইয়া খাতুন ও খালা আঁখি খাতুন (২৫)।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক বলেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে দমকল বাহিনী, বিজিবি ও নৌ-পুলিশ রাত থেকেই উদ্ধার অভিযান চালায়। সকালে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দল।

তিনি বলেন, এই নৌকা ডুবির ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সকাল থেকে তদন্ত শুরু করেছে। এছাড়াও পদ্মাপাড়ে নিখোঁজ ও হতাহতের অনুসন্ধান এবং উদ্ধার কার্যক্রম সমন্বয়ে কেন্দ্র খোলা হয়েছে। নিহতের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও আহতের চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে সরকার বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

তদন্ত কমিটির প্রধান আবু আসলাম বলেন, দুই নৌকায় ধাক্কা, নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়া ও ওই সময় ঝোড়ো বাতাসের কারণে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এতে তারা নড়াচড়া করলে নৌকায় পানি উঠে যায়। এছাড়া এক নৌকা থেকে আরেক নৌকায় লাফিয়ে ওঠার চেষ্টা করায় দুই নৌকাই ডুবে যায়। তবে সে সময় ওই দিক দিয়ে একটি বালুবাহী বোর্ড যাচ্ছিল। তারা অনেককে উদ্ধার করেছে।

রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুর রউফ বলেন, দুইটি নৌকায় ৩৬ জন যাত্রী ছিল। এর মধ্যে ১৭ জন নারী ও ৬ জন শিশু।

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের উপপরিচালক আবদুর রশীদ জানান, নৌ পুলিশ, মহানগর পুলিশ, জেলা পুলিশ এবং বিজিবি সদস্যরা রাজশাহীর শ্রীরামপুর এলাকা থেকে শুরু করে পদ্মাপাড় ঘেঁষে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে থাকা চারঘাট উপজেলা পর্যন্ত নিখোঁজদের খোঁজে টহল দিচ্ছেন।