স্বাধীনতা দিবসে আসছে ওয়েব সিরিজ ‘একাত্তর’

২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসে জনপ্রিয় অনলাইন এন্টারটেইনমেন্ট প্ল্যাটফর্ম হইচই-এ মুক্তি পাচ্ছে নতুন অরিজিনাল ওয়েব সিরিজ ‘একাত্তর’। শিবব্রত বর্মণ-এর চিত্রনাট্যে থ্রিলার ঘরানার এই ওয়েব সিরিজটি পরিচালনা করেছেন তানিম নূর। অভিনয় করেছেন মুস্তাফা মনোয়ার, ইরেশ যাকের, রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা, নুসরাত ইমরোজ তিশা, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, তারিক আনাম খান, শতাব্দী ওয়াদুদ, দীপান্বিতা মার্টিন প্রমুখ।  

এ উপলক্ষে গত ০৫ই মার্চ বৃহস্পতিবার ডেইলি স্টার সেন্টার এর তৌফিক আজিজ খান সেমিনার হলে হয়ে গেল হৈচৈ অরিজিনাল ওয়েব সিরিজ ‘একাত্তর’-এর প্রথম দর্শন (ফার্স্ট লুক রিভিল) এবং চরিত্র পরিচিতি (ইন্ট্রোডাকশন অফ দা ক্যারেক্টারস)। অভিনেতাদের পাশাপাশি এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন হইচই বাংলাদেশ এর বিজনেস লিড সাকিব আর খান, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডোপ প্রোডাকশনস থেকে পরিচালক তানিম নূর, একাত্তরের এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার দ্য গুড কোম্পানির সিইও সরদার সানিয়াত হোসাইন এবং হইচই বাংলাদেশের কর্মকর্তাবৃন্দ।

ওয়েব সিরিজ একাত্তরের কাহিনির সূচনা হয় ১৯৭১ সালের শুরুতে, যখন আন্দোলনে উত্তাল পূর্ব বাংলা। পূর্ব বাংলার মানুষের ন্যায্য অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করতে ‘অপারেশন ব্লিটজ’ নামে একটি অপারেশনের প্ল্যান করে পাকিস্তান আর্মি। ক্যাপ্টেন সিরাজ নামের (মোস্তাফিজুর নূর ইমরান) এক বাঙালি অফিসার গোপনে সেই ফাইল জোগাড় করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের হাতে তুলে দিতে চায়। তার পেছনে ধাওয়া করে পাকিস্তানি মেজর ওয়াসিম (ইরেশ যাকের)। এ সময় ক্যাপ্টেন সিরাজ জীবন বাঁচাতে সেলিমের (মুস্তাফা মনোয়ার) গ্যারেজে আশ্রয় নেয়। ফাইলটি গণমাধ্যমের হাতে পৌঁছাতে ক্যাপ্টেন সিরাজ মেজর ওয়াসিমের স্ত্রী সাংবাদিক রুহি বাট (মিথিলা) এর সাহায্য চায়। রুহি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। সেলিমের সঙ্গে জয়িতা (তিশা), প্রদীপ (শতাব্দী ওয়াদুদ) এবং অন্যান্যরা ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি আর্মির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এমনই এক গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে একাত্তর। 

হইচই বাংলাদেশের বিজনেস লিড সাকিব আর খান জানান, ‘বাংলাদেশের প্রতিভা সারা পৃথিবীতেই স্বীকৃতি পেয়েছে, এবং বাংলাদেশের কনটেন্ট সারা পৃথিবীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এটি আমাদের আরও একটি প্রচেষ্টা। হইচই এ দেশে আরও অনেক কনটেন্ট নিয়ে কাজ করছে এবং খুব তাড়াতাড়ি তা হইচইয়ে চলে আসবে। যেহেতু আমরা পুরো পৃথিবীর বাংলা ভাষা ভাষীদের বিনোদনের জন্য কাজ করছি, এবং বাংলাকে ঘিরে রয়েছে আমাদের শেকড়, ভালোবাসা, সংস্কৃতি ও ইতিহাস- সে কারণে আমরা কিছু দায়বদ্ধতা এড়াতে পারি না। একাত্তর- আমাদের সেই দায়বদ্ধতারই প্রতিফলন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এ রকম কাজ খুব বেশি হয়নি। আশা করি এই কনটেন্ট আমাদের সবার ভালো লাগবে এবং নতুন ভাবনার খোরাক জোগাবে।’

অনুষ্ঠানে ‘একাত্তর’ এর ট্রেইলার দেখানো হয় এবং অভিনেতারা এক এক করে সবার সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

উল্লেখ্য যে হইচই বাংলাদেশের আগে ‘ঢাকা মেট্রো’ এবং ‘মানি হানি’ নামে দুটি অরিজিনাল ওয়েব সিরিজ বাংলাদেশে তৈরি করেছে।

মোস্তাফিজুর নূর ইমরান বলেন, ‘একটি কাজ তখনই ভালো হয় যখন ভালো কাহিনি এবং ভালো বাহিনী এই দুইয়ের সম্মিলন ঘটে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন হয় প্রোফেশনালিজম এবং অনারের। হইচই এবং এই টিমের সঙ্গে আমার একাধারে কয়েকটি কাজের পেছনের মূল কারণ আসলে এটাই। এই সবগুলোই এই টিমের মধ্যে আছে। হইচইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই এই চমৎকার কাজটির জন্য। সেই সঙ্গে ধন্যবাদ দিতে চাই পরিচালক তানিম নূরকে। তার সঙ্গে এত কম্ফোর্টেবলি কাজ করতে পেরেছি বলেই চরিত্রটা ফুটিয়ে তোলা আমার জন্য সহজ হয়েছে।’

ইরেশ যাকের বলেন, ‘নানা ব্যস্ততার কারণে প্রায় এক বছর আমি কাজ থেকে দূরে ছিলাম। তারপর আমি তানিমের কাছ থেকে এই কাজটার প্রস্তাব পাই। ও আমাকে ‘Stranger in my own country’ বইটা তখন পড়তে দেয়। এই অ্যাপ্রোচ এখনকার যেকোনো ডিরেক্টর থেকে পাওয়া আসলেই বিরল। পুরো টিম অনেক পরিশ্রম করেছে এই কাজটা সুন্দরভাবে শেষ করার জন্য। কারও চেষ্টায় কোনো ত্রুটি ছিল না। আমি সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ হয়েছি ইমরানকে দেখে। একটা চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে সেই চরিত্রের ভেতর ডুবে যাওয়ার যে চেষ্টা থাকা দরকার সেটা ওর মধ্যে আমি খুঁজে পেয়েছি। আমি নিজে ওকে দেখে আসলে অনুপ্রেরণা পেয়েছি।’

মিথিলা বলেন, ‘এই চরিত্রটা আমার জন্য আসলেই অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। এর একটা কারণ হচ্ছে আমাকে চরিত্রের জন্য ক্রমাগত ঊর্দূতে কথা বলতে হচ্ছিল, শিখতে হচ্ছিল। কখনো কোনো কাজের জন্য আমাকে এত পরিশ্রম বোধ হয় করতে হয়নি। সত্যি কথা বলতে গেলে এখন তো অকে নাটকের স্ক্রিপ্ট আমরা নাটকের সেটে গিয়েও পাই! কিন্তু তানিম আমাদের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে স্ক্রিপ্ট দিয়েছে।’

তিশা বলেন, ‘তানিমের সঙ্গে আসলে এটাই আমার প্রথম কাজ। আমাদের সব আবদার শুনেও এত সুন্দর করে কাজটা শেষ করার জন্য তানিমকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। হইচই টিম, গুড কোম্পানি এবং ক্যামেরার পেছনে যারা কাজ করেছেন সবাইকে আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ। সব শেষে এটাই বলব যে এটা পুরোপুরি একটা টিম ওয়ার্ক। পুরো টিম এত খেটেছে তার কাছে আসলে আমাদের খাটুনি খুবই অল্প।’

মোস্তফা মনোয়ার বলেন, ‘এই পুরো টিমটাই আসলে আমার জন্য খুব কম্ফোর্টেবল। তানিমের সঙ্গে খুবই রিলাক্স হয়ে আমি কাজটা করতে পেরেছি। স্ক্রিপ্টটা যখন প্রথম হাতে পাই তখনই আমি খুব খুশি হই যে এ রকম একটা ক্যারেক্টারের জন্য তানিম আমার ওপর আস্থা রেখেছে। পুরো ক্যারেক্টারটা শুরু থেকে শেষ অব্দি নানান ট্রান্সফরমেশনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে।খুবই উপভোগ করেছি আমি চরিত্রটা।’

পরিচালক তানিম নূর বলেন, ‘অপারেশন ব্লিটজ নিয়ে এর আগে বাংলাদেশে তেমন কোনো কাজ হয়নি আমার জানামতে। চলচ্চিত্রের কাহিনি সত্য গল্পের ভিত্তিতে হলেও শেষ পর্যন্ত এটা একটা ফিকশন। ১৯৭১ আমাদের কাছে সাধারণ মানুষদের অসাধারণ হয়ে ওঠার ইতিহাস। এই ‘একাত্তর’ ও আসলে সাধারণ কিছু মানুষের অসাধারণ হয়ে ওঠবার গল্প।’