আবাহনীকে কাটল আবাহনী মোহামেডানে হার কিংসের

বুধবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডান স্পোর্টিংকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল আবাহনী লিমিটেড। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে দু’দলের পরের রাউন্ডেই মোহামেডান ঘুরে দাঁড়াল, অন্যদিকে আবাহনী হারল আরেক আবাহনীর কাছে। গতকাল বিকেলে কুমিল্লায় হোমগ্রাউন্ডে নিজেদের প্রথম ম্যাচে গতবারের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসকে ১-০ গোলে হারায় মোহামেডান। আর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ঢাকা আবাহনী রাতে চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে হেরে যায় ২-০ গোলে।

এই জয়ে ৫ খেলায় ১০ পয়েন্ট নিয়ে শ্রেয়তর গোলগড়ে শীর্ষে উঠে এলো চট্টগ্রাম আবাহনী। সমান ম্যাচে ঢাকা আবাহনীর পয়েন্টও ১০। দু’দলের গোলগড় সমান হলেও একটি গোল বেশি করেছে চট্টগ্রাম আবাহনী। সাইফ স্পোর্টিং ও বসুন্ধরা কিংসের পয়েন্টও ৫ রাউন্ড শেষে ১০। তবে গোল গড়ে পিছিয়ে তারা দুই আবাহনীর চেয়ে।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে দুই আবাহনীর খেলার প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। ৬৩ মিনিটে খেলার বন্ধ্যত্ব ঘোচান আইভোরি কোস্টের দিদিয়ের ব্রোসু। ইনজুরি টাইমে মানিক মোল্লার গোল চট্টগ্রাম আবাহনীকে শীর্ষে উঠতে সাহায্য করে। একই সময়ে সিলেটে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে ২-০ হারায় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। গোলদাতা রাফায়েল ওনওয়েবে এবং হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস। ৫ ম্যাচে প্রথম জয় এটি শেখ রাসেলের।

নিজেদের মাঠে রঙিন অভিষেক মোহামেডানের

২০ হাজার আসনের কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামের মাঠ নিয়ে সমালোচনা ছিল বেশ। অনেক অংশই ন্যাড়া, অসমান থাকায় আপত্তি জানিয়েছিল কিংস। বাফুফেও স্বীকার করে, গতকালের ম্যাচের জন্য পুরোপুরি তৈরি করা যায়নি মাঠটি। এমন পিচেই তারকাসমৃদ্ধ কিংস আর ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানের খেলা দেখতে উৎসবে মেতে ওঠেন কুমিল্লাবাসী।

পূর্ব গ্যালারির পুরোটাই রঙিন করে রাখে বসুন্ধরার সমর্থকরা। স্কুলের ছাত্ররা বসুন্ধরার জার্সি পরে এবং বাদ্য-বাজনা নিয়ে মাঠে এসেছিল। কিন্তু তাদের এই উৎসব থামিয়ে দেয় মোহামেডান খেলার ২৪ মিনিটেই। মিনিট দশেক আগে নাইজেরিয়ার ওবি মনেকের ক্রস মিস করে মালির সুলেমান দিয়াবা। এবার বক্সের সামান্য বাইরে থেকে নিজেই জোরালো শট নেন মনেকে। কিংস গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোর মাথার ওপর দিয়ে বল ঢোকে জালে।

কিংসের দানিয়েল কলিনদ্রেসকে আটকে দিয়েছিলেন কাল মোহামেডানের ডিফেন্ডাররা। ইব্রাহিম, বিশ্বনাথ ঘোষ দুই উইং দিয়ে আক্রমণে উঠেও গোলের দেখা পাননি। বরং প্রতি আক্রমণ থেকে সুলেমান বেশ কয়েকবার বসুন্ধরার বক্সে ঢুকেছেন। কিন্তু গোল করতে পারেননি।

দ্বিতীয়ার্ধে বসুন্ধরা ছিল আরও আক্রমণাত্মক। তবে সময় যত গড়িয়েছে তত চাপে পড়েছে বসুন্ধরা। আর সে চাপে মাঝেমধ্যে মেজাজ হারিয়েছেন বসুন্ধরার ফুটবলাররা। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে চোটে পড়েন মোহামেডানের মাসুদ রানা। কিন্তু তাকে মাঠ থেকে দেরিতে বের হতে দেখে বসুন্ধরার ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ তেড়ে যান মাসুদের দিকে। প্রতিবাদে মনেকে জবাব দিলে তাকে ঘুষি মারেন বিশ্বনাথ। শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা থামাতে এগিয়ে আসেন রেফারি। বাকি সময়ে অবশ্য আর কোনো দল গোল করতে পারেনি।

ধানম-ির টানা তৃতীয় জয়

দুটি গোছালো আক্রমণ থেকে গোল তুলে নিয়ে সাইফ স্পোর্টিংকে ২-১ গোলে হারিয়েছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব। হার দিয়ে শুরু করা ২০১৫’র চ্যাম্পিয়নদের এটি টানা তৃতীয় জয়। ময়মনসিংহের রফিক উদ্দিন ভুইয়া স্টেডিয়ামে দারুণ বোঝাপড়ায় ১৪ মিনিটেই এগিয়ে যায় শেখ জামাল। ফয়সাল আহমেদের বাড়ানো বল বালো ফামুসা ফ্লিক করার পর পেয়ে যান ওমর জোবে। নিখুঁত শটে কাছের পোস্ট দিয়ে জাল খুঁজে নেন গাম্বিয়ার এই ফরোয়ার্ড। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয় আগের দুই ম্যাচ জিতে উজ্জীবিত থাকা শেখ জামাল। জাহিদ হোসেনের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে জোবে আড়াআড়ি ক্রস বাড়ান; গোলমুখ থেকে টোকায় লক্ষ্যভেদ করেন ফামুসা। ৮০ মিনিটে ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ব্যবধান কমালেও হার এড়াতে পারেনি সাইফ স্পোর্টিং।