মাশরাফীকে প্রতিযোগিতা করেই দলে থাকতে হবে: পাপন

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে শেষ হয়েছে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার অধিনায়কত্ব অধ্যায়। অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ওয়ানডেতে দেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক। তবে দলে জায়গা পেতে হলে মাশরাফীকে এখন অন্যদের মতো প্রতিযোগিতা করেই আসতে হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে চোটে পড়ার পর থেকেই আর টেস্ট খেলেন না মাশরাফী। টি-টোয়েন্টিকে বিদায় জানিয়েছেন ২০১৭ সালে। কেবল ওয়ানডে ফরম্যাটটাই চালিয়ে যাচ্ছেন নড়াইল এক্সপ্রেস। মাশরাফীর নেতৃত্বেই শেষ পাঁচ বছরে ওয়ানডেতে সমীহ জাগানিয়া দলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ।

তবে অধিনায়কত্ব থেকে সরে যাওয়ার পর দলে মাশরাফীর চাহিদাও বদলাচ্ছে। বিসিবি সভাপতি সেই ইঙ্গিতই দিলেন। রবিবার বোর্ড সভা শেষে নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘খেলোয়াড় হিসেবে প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই একটা সময় থাকে। কখনো ফর্ম থাকে, কখনো ফর্ম থাকে না। বয়স একটা ফ্যাক্টর, অবসর একটা ফ্যাক্টর। ও খেলার মধ্যে থাকতে চাইলে ওয়েলকাম। কিন্তু অন্য খেলোয়াড়দের মতো তাকেও প্রতিযোগিতা করেই আসতে হবে।’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগেও অবশ্য একবার এই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের পর নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক বেছে নেওয়া হবে, জানিয়েছিলে সেটিও। রবিবার তামিম ইকবালকে নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক করা হয়েছে।

এদিকে মাশরাফী শুধু অধিনায়ক হিসেবে দলে আছেন, এমন কথা শেষ ক’বছরে অনেকবারই সামনে এসেছে। বিসিবি সভাপতি নিজেও বেশ কয়বার বলেছেন এমনটা। এদিন নাজমুল হাসান পাপন বললেন, ২০১৪ সালেও মাশরাফীকে দলের বাইরে থেকে এনেই অধিনায়কত্ব দেওয়া হয়েছিল।

‘২০১৪ সালে যখন ওকে অধিনায়ক করা হয়, ওকে একটা বিশেষ কারণেই করা হয়। সে কিন্তু স্কোয়াডে ছিল না। খেলার মধ্যে ছিল না। স্কোয়াডের বাইরে থেকে একজনকে এনে অধিনায়ক করার একটি বিশেষ কারণ ছিল। তার ওপর একটা আস্থা ছিল, বিশ্বাস ছিল। সেটি ছিল বলেই তাকে বানানো হয়েছিল।’

মাশরাফী সেই দায়িত্ব দারুণভাবেই পালন করেছেন বলে মনে করেন পাপন, ‘সে এই দায়িত্বটা দারুণ ভাবে পালন করেছে। গত ৬ বছরে যত সাফল্য এসেছে, সেটা ওকে ছাড়া কখনোই সম্ভব হতো না।’

তবে ‘জেদি’ মাশরাফী চাইলে দাপটের সঙ্গেই জাতীয় দলে খেলতে যেতে পারেন বলে মনে করেন নাজমুল হাসান পাপন, ‘আমার মনে হয় না ও নিজেই মনে করে পুরোপুরি ফিট। কিন্তু আমি নিশ্চিত... ও কিন্তু অসম্ভব জেদি। সে কিন্তু পেছনে হটার লোক নয়। ও যদি মনে করে আমি জাতীয় দলে ঢুকবো। তাহলে আমি অবাক হবো না। কিছুদিন পর দেখবেন সেরা বোলার হিসেবে ঢুকে পড়েছে। সেটা হলে আমি আশ্চর্য হবো না।’