চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় অভিযানে গিয়ে জেলে ও জাটকা পাচারকারীদের হামলায় হাইমচর উপজেলা জাটকা সংরক্ষণ টাস্কফোর্সের অন্তত আট সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় আত্মরক্ষায় পুলিশ ৯ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাইমচর ইউনিয়নের চর অ্যালটম্যান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে আজগর সরদার (৩০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
নৌপুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জেলে ও জাটকা পাচারকারীদের হামলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী বেগম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ ভট্টাচার্য, নীলকমল নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুল জলিল, এসআই শফিউল্লাসহ অন্তত আটজন আহত হন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ ভট্টাচার্য বলেন, শনিবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগসহ উপজেলা টাস্কফোর্সের সদস্যরা চর অ্যালটম্যান এলাকার গুচ্ছগ্রামে অভিযানে যান। জাটকা জব্দ করা হলে স্থানীয় জেলে, জাটকা পাচারকারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। হামলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী বেগমসহ অন্তত আটজন আহত হন। এ সময় তারা ইউএনওকে জিম্মি করে তার সঙ্গে থাকা দুটি মোবাইল ফোন ও হাতব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে হাইমচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাত সরকার স্থানীয়দের সহায়তায় আমাদের উদ্ধার করেন।
নীলকমল নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুল জলিল গতকাল রবিবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা অভিযানের সময় জাটকা জব্দ করছিলাম। হঠাৎ করে জেলে ও জাটকা কারবারিরা সংঘবদ্ধ হয়ে আমাদের ঘেরাও করে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় আত্মরক্ষার্থে ৯ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনায় হাইমচর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
হামলার ঘটনায় গতকাল দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় আলোচনা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুরুল আলম নিজামী বলেন, জেলেদের সরকার চাল দিয়েছে, ঘর দিয়েছে, আর তারাই প্রশাসনের ওপর হামলা চালাল। এটি একটি অশনিসংকেত। কোনোভাবেই তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মার্চ-এপ্রিল দুই মাস চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় জাটকাসহ সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। হামলার সংবাদ পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ মাহমুদ জামান।