টেস্ট আর ওয়ানডে আত্মবিশ্বাসকে যে জায়গায় তুলে নিয়ে গেছে তাতে বড় একটা কাজ হয়ে গেছে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের। শেষ সফরে পাকিস্তানে বাজে হারের প্রসঙ্গ খুব একটা সামনে আসছে না। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ তবু সতর্ক থাকছেন। ওদিকে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক শন উইলিয়ামস সবচেয়ে ছোট সংস্করণের খেলাটির চরিত্র বিচার করে হুমকি দিয়ে যান।
মিরপুর স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে ২ ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি।
টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারানোর পর ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। তাতে ওই সংস্করণে হারাতে বসা আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার হয়েছে। এখন টি-টোয়েন্টির আত্মবিশ্বাস ফেরানোর পালা। আফ্রিকান প্রতিপক্ষ তো সব আত্মবিশ্বাস হারিয়ে বসা দল এখন। ‘আমরা টেস্ট সিরিজ এবং ওয়ানডে সিরিজে ভালো ক্রিকেট খেলেছি। ব্যাটসম্যানরা খেলছে, বোলাররাও খুব ভালো প্রয়োগ করছে।’ কিন্তু গভীরে গিয়ে মাহমুদউল্লাহর উচ্চারণ, ‘তারপরও আমার মনে হয় টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ে বেশ শক্তিশালী একটি দল। তাদের ব্যাটিং অর্ডার বেশ ভালো। আমাদেরও খুব ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। ইতিবাচক মাইন্ডসেট নিয়ে আসতে হবে। কারণ আমরা যদি সহজভাবে নিই, আমাদের জন্য খারাপ হবে।’
জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক শন উইলিয়ামস বললেন, ‘আমরা পুরো মনোযোগ দিয়েছি টি-টোয়েন্টিতে। খেলোয়াড়দের সামনে ওয়ানডের কথা একদমই উল্লেখ করিনি।’ এর সঙ্গে এই ২০ ওভারের খেলাটির অনিশ্চয়তার দিক তুলে এনে হুমকির সুরে জানালেন, ‘আমার মতে আমরা জিততে পারি। টি-টোয়েন্টিতে দুই বলও খেলা পাল্টে দিতে জানে। তামিমকে (ইকবাল) আউট করতে পারলে যে কোনো কিছু ঘটতে পারে।’
জিম্বাবুয়ে গেল সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিল আরেকটি তেমন সিরিজ খেলতে। এখানে স্বাগতিকরা দুটিতেই জিতেছিল। আর ওখানে জিম্বাবুয়ে সিঙ্গাপুরের কাছে হার দিয়ে শুরু করেছিল। এরপর ঘুরে দাঁড়িয়ে স্বাগতিক ও নেপালের বিপক্ষে ৩ ম্যাচই জিতেছিল। সুতরাং, এই ফরম্যাটে টানা জয়ের স্মৃতি নিয়ে নামবে তারা।
বাংলাদেশের তা নেই। নভেম্বরে ভারতকে দিল্লিতে দুর্ধর্ষভাবে হারিয়ে পরের দুই ম্যাচে হেরেছিল। সেই হিসেবে শেষ চার ম্যাচেই মাহমুদউল্লাহর হার। অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর ৫ ম্যাচের মোটে একটিতে জয়। তার আগে ২০১৮ সালে ভারপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন হিসেবে ৫ ম্যাচের ৪টিতে হারের পাশে নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই বিখ্যাত জয় আছে। মাহমুদউল্লাহর সতর্ক না হয়ে উপায় আছে?
ওয়ানডে সিরিজে তামিম ইকবাল ও লিটন দাস দুটি করে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়েছেন ওই দুজন। দুই সিনিয়র মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকুর রহিম রানে আছেন। তরুণ নাঈম শেখ এখানে প্রমাণিত। আফিফ হোসেন ধ্রুব নিচে ব্যাট করেন বলে নিজেকে এখনো মেলে ধরতে পারেননি। এর মধ্যে ৫ মাস পর পেস অল রাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ফেরা দলে দিচ্ছে আরও ভারসাম্য।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের মাত্র ১ সেঞ্চুরির কথা এলে অধিনায়ক তাই বলতে পারলেন, ‘যেভাবে তামিম-লিটন ব্যাট করছে আমার মনে হয় এমন সাবলীল যদি করতে পারে সেঞ্চুরিটা খুব বেশি দিন বাকি থাকবে না।’ এর সঙ্গে স্বস্তি, ‘যেহেতু সাইফউদ্দিন ঢুকেছে আমার মনে হয় দলের অবস্থা আগের চাইতে ভালো। একজন বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে ওর ভূমিকাটা অনেক বেশি। সাইফউদ্দিন ঢোকাতে আমাদের জন্য আরও সহজ হবে।’ এত রান হয়েছে বাকি দুই ফরম্যাটে, এখানে কী আশা? ‘যদি নির্ধারিত দিনে ভালো উইকেট হয় আশা করি ১৮০ রান হবে’ যেন কিছু রান হাতে রেখেই বললেন মাহমুদউল্লাহ।
জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞ ক্রেইগ আরভিন ফিটনেস প্রমাণ করে ফিরতে পারেন। ব্রেন্ডন টেইলর, সিকান্দার রাজার সঙ্গে আরভিন মিলে ভালো ব্যাটিং লাইনআপ। ডোনাল্ড টিরিপানো ও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে উঠে আসা অলরাউন্ডার ওয়েসলি মাধেভেরে ভালো করছেন। উইলিয়ামস অবশ্য বলে গেলেন, ‘ব্রেন্ডন, আমি ও রাজা এখানে অনেক বছর ধরে খেলছি। কিছু জায়গা আছে যেটা ধরে আমরা আক্রমণ করতে পারি।’ দেখা যাক সেই আক্রমণে তাদের ভাগ্যে কোনো পরিবর্তন আসে নাকি বাংলাদেশ এই সংস্করণেও দুর্ধর্ষ হয়ে ওঠে।