পিতামাতাকে মারধর করে সাদা স্ট্যাম্পে সই নেয়ার পর হত্যার হুমকি!

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি থানার ছনগাঁও গ্রামে বৃদ্ধ পিতামাতাকে মারধর করে পুলিশের সামনেই সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে নেয়ার পর হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার নোয়াখালী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বৃদ্ধ মোবারক উল্লা ও তার স্ত্রী তাদের ছোট ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তারা মামলাও করেছেন বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলনে মোবারক উল্লা বলেন, ইতিমধ্যে জাহাঙ্গীর সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে বসত ঘর দখল আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। তারা বর্তমানে চৌমুহনী বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন।

মোবারক উল্লা জানান, সে দীর্ঘ দিন কুয়েতে চাকরি করতেন। ১৯৯৭ সালে বড় ছেলে জসিম উদ্দিনকে সেখানে নিয়ে যাই। ছোট ছেলে জাহাঙ্গীরকে কুয়েতে নেয়ার জন্য ২/৩ বার ভিসা পাঠালেও সে না গিয়ে আমেরিকা যাওয়ার জন্য ৮ লাখ টাকা দাবি করে। তার কথামতো টাকা দিলে, সে তা দিয়ে আমেরিকা না গিয়ে এলাকার খোরশেদ আলমের সাথে মাদকের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। খোরশেদের বিরুদ্ধে নোয়াখালী ও ঢাকায় মাদক, প্রতারণা, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, হত্যার চেষ্টা ও জাল সার্টিফিকেট তৈরির ঘটনায় ৭ টি মামলা রয়েছে।

তিনি জানান, গত ১০ জানুয়ারি খোরশেদের নেতৃত্বে তার ছেলে জাহাঙ্গীর ও সফিকুর রহমানসহ ৪/৫ জন বসত বাড়ির সামনে তার কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করে। সে দিতে রাজি না হওয়ায় তারা তাকে মারধর শুরু করে। তখন বাড়ি থেকে তার অপর পুত্র জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী পেয়ারা বেগম ঘটনাস্থলে আসলে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপরও হামলা চালায়। জাহাঙ্গীর পিটিয়ে তার মায়ের পা ভেঙে ফেলে।

তিনি অভিযোগ করেন, এ ব্যাপারে সোনাইমুড়ি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তার মামলা গ্রহণ না করলে উল্টো দেড় লাখ টাকা দাবি করে। সেখানে জাহাঙ্গীরকে ২ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য তার ও তার স্ত্রীর কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্পে সই করিয়ে নেয়। জাহাঙ্গীর থানায় পুলিশের সামনেই দাবিকৃত টাকা ও জমি রেজিস্ট্রি করে না দিলে তাদের হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখার হুমকি দেয়।

সোনাইমুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুস সামাদ এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন, যদি পুলিশের কেউ এমন আচরণ করে থাকেন এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।