১৩ কিলোমিটার সড়কে ৩১ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরের ১৩ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে রয়েছে ছোট-বড় ৩১টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। সড়কের উভয় পাশ ঝোপঝাড় ও জঙ্গলে পরিবেষ্টিত। ঝুঁকিপূর্ণ এসব মোড়ে আবার বসানো হয়েছে অপরিকল্পতিভাবে পিলার। এতে সড়কটি হয়ে গেছে সংকুচিত। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, শমশেরনগর বিমানবন্দর এলাকা থেকে শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কে প্রায় ৪৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে উন্নয়নমূলক কাজ শেষ হয়। তবে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর পাহাড়ি এলাকার সড়কের বিভিন্ন জায়গায় মোড়গুলো সম্প্রসারণ না করায় প্রতিনিয়তই মুখোমুখি হচ্ছে যানবাহন। এর মধ্যে আবার অপরিকল্পিতভাবে মোড়ে মোড়ে পিলার বসানোর কারণে সেগুলো এখন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাসচালক আলী আজম ও সিএনজি অটোচালক উজ্জল আহমদ বলেন, ‘এমনিতেই এ সড়কের বাঁকগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। উন্নয়ন কাজের সময় বাঁকে পিলার স্থাপনে আরও ঝুঁকি বেড়েছে। হঠাৎ বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনকে অতিক্রমকালে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।’ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আনিছুর রহমান বলেন, ‘মোড়গুলো প্রশস্তকরণ ও বিপজ্জনক স্থানে গাইড ওয়াল তুলতে বন বিভাগ বাধা দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন মোড় উঁচু-নিচু এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন গভীর করায় পিলার দেওয়া হয়েছে। যাতে গাড়ির চাকা ড্রেনে পড়ে দুর্ঘটনা না ঘটে।’

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক আনিছুর রহমান জানান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে চলমান সড়কে আঁকাবাঁকা মোড় বড় করার কাজে সড়ক জনপথ বিভাগকে বাধা দেওয়া হয়নি। তাদেরকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রবেশ পথের সামনে টিলা কাটতে নিষেধ করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, বাঘমারা বন ক্যাম্প, লাউয়াছড়া মেইন গেইট ও জানকিছড়া এলাকায় আমাদের বন্যপ্রাণী অবাদ বিচরণে বাধাগ্রস্তসহ যাত্রী ও বন্যপ্রাণীর জীবন বিপন্ন হতে পারে, তাই তাদেরকে এ তিন স্থানে স্পিডব্রেকার বসানোর অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা করেনি। তিনি বলেন, ‘আমি বিপজ্জনক স্থানে গাইড ওয়ালের কথা বলার পরও সওজ অপ্রয়োজনীয় স্থানে তা করেছে।’