যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়ার ওয়েস্টিন হোটেলকেন্দ্রিক কারবারে ‘জড়িত’দের নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। গত সোমবার মাগুরার আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় এ মামলা করেন।
মামলায় মতিউর রহমানের পাশাপাশি মানবজমিনের প্রতিবেদক আল আমিনসহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মানবজমিনে প্রকাশিত সংবাদে কারও নাম উল্লেখ করা না হলেও ফেইসবুকে সেই সংবাদ ছড়ানোর পাশাপাশি নামের তালিকাও দিয়েছেন এমন ৩০ জনকে আসামি করেছেন শিখর।
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মানহানিকর, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রকাশ করে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করার অভিযোগ এনে মামলাটি করা হয়েছে।’
গত ৯ মার্চ করা মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২ মার্চ দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর নির্দেশে আল আমিন নামে একজন প্রতিবেদক ‘পাপিয়ার মুখে আমলা, এমপি, ব্যবসায়ীসহ ৩০ জনের নাম’ শীর্ষক সংবাদ পরিবেশন করে। এ প্রতিবেদনে ইঙ্গিতমূলকভাবে ঠাকুরগাঁও জেলার একজন, দিনাজপুর জেলার একজন, নীলফামারী জেলার একজন, রংপুর জেলার একজন, কুষ্টিয়া জেলার একজন ও মাগুরা জেলার একজন সংসদ সদস্যের নাম প্রকাশ করা হয়।
এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় ২৫ থেকে ৩০ জনের নামসহ একাধিক তালিকা প্রকাশ ও ছড়িয়ে দেওয়া হয় যাতে বিভিন্ন সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তাসহ মাগুরার সংসদ সদস্য মো. সাইফুজ্জামান শিখরের নামও রয়েছে।
এ ঘটনায় সংক্ষুব্ধ হয়ে সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার অভিযোগ এনে মানবজমিন সম্পাদক, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক এবং ফেইসবুকে তালিকাগুলো প্রকাশ ও শেয়ারকারী ৩০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সাইফুজ্জামান শিখর।
এজাহারে বাদী দাবি করেন, মানবজমিন পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ও উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গসহ ষড়যন্ত্রকারীরা পারস্পরিক যোগসাজশ করে উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ পরিবেশন করে তাকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করে হীন স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা করেছেন। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি।
এজাহারে উল্লেখ করা ৩০ ব্যক্তির ফেইসবুক আইডি হচ্ছে শফিকুল ইসলাম কাজল; প্রিন্স ফাহিম; আরিফুল ইসলাম আরিফ; জুয়েল আহমেদ; মোহাম্মদ মোসলেম; মোহাম্মদ মিজানুর রহমান; মোর্সেদ আলম; কাকন, আবু হানিফ; মো. রুবেল; আয়েশা আমান; মোহাম্মদ শামীম আক্তার; মো. তৌফিক; মিলি হাসান; হাবিব আদনান; ঋষি কান্ত; মো. সোহেল হোসেন; ছালে আহমেদ; জসিম উদ্দিন জসিম; মো. খাইরুল ইসলাম; হেদায়েতুল ইসলাম কিরন; মো. মাহাফুজ আহমেদ; এমএ মামুন; মো. হেলাল; সেলিম চৌধুরী; ইস্পাত মোহাম্মদ; বেলায়েত হোসেন; মারুফ রেজা ও মকটেল হোসেন মুক্তি।
যুব মহিলা লীগের নরসিংদী জেলার সাধারণ সম্পাদক (পরে বহিষ্কৃত) পাপিয়াকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারের পর তার ওয়েস্টিন হোটেলকেন্দ্রিক ‘যৌন সেবার কারবার’-এর কথা র্যাব জানায়। পাঁচতারা ওয়েস্টিন হোটেলের প্রেসিডেনশিয়াল স্যুইট মাসের পর মাস ভাড়া করে পাপিয়া কারবার চালাতেন বলে র্যাবের ভাষ্য।
সেখানে যাতায়াতকারী হিসেবে কয়েকজন আমলা, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মকর্তা, টক শোর আলোচক, সংসদ সদস্য, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীর কথা উল্লেখ করা হয়েছিল গত ২ মার্চ প্রকাশিত মানবজমিনের প্রতিবেদনে। তবে ওই প্রতিবেদনে কারও নাম উল্লেখ করা না হলেও ফেইসবুকে বিভিন্নজনের নাম উঠে আসছে।
সেই তালিকায় কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের নাম জড়িয়ে লেখার কারণে সম্প্রতি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ওই জেলারই এক আওয়ামী লীগ নেতা।