একাধিকবার বঙ্গবন্ধু বানান ভুল করে ক্ষোভের মুখে জেলা প্রশাসন!

সাতক্ষীরায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদ্‌যাপনে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে ‘বঙ্গবন্ধু’ বানান ভুল লেখা হয়েছে। 

১৭ মার্চ এ দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত পর্যালোচনা সভাটি স্থগিত করার চিঠিতেও ‘বঙ্গবন্ধু’ বানান ভুল করে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দেওয়া ওই চিঠি ফেইসবুকে প্রকাশ করলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, সোমবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপনে পর্যালোচনা সভা উপলক্ষে সাতক্ষীরার চার সংসদ সদস্যকে জেলা প্রশাসকের পক্ষে সহকারী কমিশনার ইন্দ্রজীত সাহা আমন্ত্রণপত্র পাঠান। চিঠিতে বুধবার দুপুর ১২টায় পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান হয়।

চিঠিতে তিন স্থানে ভুলভাবে ‘বঙগবন্ধ’ লেখা হয়েছে। বিষয়টি একজন সংসদ সদস্যের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি মঙ্গলবার সকালে ফেইসবুকে আমন্ত্রণপত্রের ছবিসহ ভুলের বিষয়টি উল্লেখ করেন। যা প্রতিবাদের ঝড় তোলে। কিছুক্ষণ পর তিনি আরা একটি চিঠি তার পোস্টে সংযুক্ত করেন সেখানে দেখা যায়, পর্যালোচনা সভাটি ‘অনিবার্য কারণবশত’ স্থগিত করা হয়েছে। যেখানে আবারও বঙ্গবন্ধু বানান তিন জায়গায় ভুলভাবে ‘বঙগবন্ধ’ লেখা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, জেলা প্রশাসন তাদের ভুল স্বীকারও করেননি সংশোধনও করেননি। উপরন্তু, চিঠি দুটির স্মারক নম্বর এবং তারিখ অভিন্ন। অর্থাৎ সভা স্থগিতের চিঠিও একই স্মারক এবং তারিখ উল্লেখ করে ইস্যু করা হয়।

দুটি চিঠি একই স্মারকে কীভাবে প্রকাশ হলো এ নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শেষের চিঠিতে সভা স্থগিত করা হলেও চিঠির শেষ অংশে লেখা হয়েছে, ‘বর্ণিত সভায় যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশক্রমে সবিনয়ে অনুরোধ করা হলো’।

বিষয়টি নিয়ে জেলাব্যাপী সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন।

সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির যুগ্মসম্পাদক আসিফ শাহবাজ খান তার ফেইসবুক আইডিতে এ ঘটনার প্রতিবাদে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বুধবার বিকেলে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন।

চিঠি দুটির বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, ‘অফিস সহকারী ভুল করে এমনটা করে ফেলেছেন। যদিও আমার এটা দেখা উচিত ছিল। পরবর্তী চিঠিটিও পূর্বের চিঠি থেকে কপি করতে গিয়ে ভুল করে ফেলেছেন। এটা সম্পূর্ণভাবে অনিচ্ছাকৃত করণিকের মিসটেক। সভাটি স্থগিত করা হবে বিধায় প্রথম চিঠিটি বিতরণ করতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু এমপি স্যারের বাসায় চিঠি দেওয়া হয়ে গিয়েছিল। তাই সভা স্থগিতের আরেকটি চিঠিও দেয়া হয়েছিল’।

একই স্মারক এবং তারিখে চিঠি দেওয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আগের চিঠির স্থলে প্রতিস্থাপিত হয়েছে মর্মে করা যায়’।