ইউরোপে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে করোনার সংক্রমণ। ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রেও অবস্থার অবনতি হচ্ছে প্রতিদিন। তবে ভাইরাসটির উৎসস্থল চীনসহ দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ ইতিমধ্যে এর সংক্রমণ অনেকটাই কমিয়ে আনতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃতের শহর চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে বন্ধ করা হয়েছে অস্থায়ী হাসপাতালগুলো। গত সোমবার সেখানে পরিদর্শনে গিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিংপিং। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে চীনের সংক্রমণ কমেছে প্রায় ৮০ শতাংশ। এই অর্জনকে সংস্থাটিসহ বিশেষজ্ঞরা বড় জয় হিসেবে দেখছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুসারে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ২১ হাজার ছাড়িয়েছে। মারা গেছে ৪ হাজার ৩৮২ জন। এর মধ্যে সোমবার চীনে মাত্র ১৯ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন; যা প্রায় গত ৭১ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে সোমবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ জন। ৮০ হাজারের বেশি আক্রান্তের দেশ চীনে এখনো চিকিৎসাধীন আছেন ১৬ হাজার ১৪৫ জন এবং চিকিৎসা শেষে করোনামুক্ত হিসেবে বাসায় ফিরেছেন ৬১ হাজার ৪৭৫ জন।
চীনের পর দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম দিকে এই ভাইরাসের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানেও আক্রান্ত এবং প্রাণহানির সংখ্যা কমে এসেছে। সেখানে মোট ৭ হাজার ৭৫৫ জন আক্রান্ত হলেও মৃত্যু হয়েছে ৬১ জনের।
ইরানে করোনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২৯১ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সংক্রমিত হয়েছেন ৮ হাজার ৪২ জন। তবে দেশটিতে ইতিমধ্যে প্রায় দুই হাজার মানুষ সুস্থ হয়েছে। সৌদি আররে করোনা সংক্রমিত ২১ জন হলেও কোনো মৃত্যু নেই। রোগীদের অবস্থা উন্নতির দিকে। ৪২ জনকে করোনা সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত করার পর ইসরায়েল নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। তবে সেখানেও কোনো মৃত্যু নেই।
ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে দাবি দেশটির সরকারের। পাকিস্তানে দুই মাস আগে প্রথম রোগী ধরা পড়লেও এখন মাত্র ৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে দেশটিতে।
সিঙ্গাপুরে এখন পর্যন্ত ১৬৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে সেখানেও ছড়ানোর হার অনেক কম। বাংলাদেশে গত রবিবার ৩ জন রোগী শনাক্ত হলেও গতকাল বুধবার দুজনের সুস্থ হয়ে ওঠার কথা জানিয়েছে সরকার।
বিপরীতে ইতালিতে করোনা আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজার ১৪৯ জন এবং প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে প্রাণ গেছে ৬৩১ জনের। স্পেনে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৬২২ এবং মারা গেছে অন্তত ৩৬ জন। ব্রিটেনে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৭৩ জন এবং প্রাণ হারিয়েছে ৬ জন। ফ্রান্সেও প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সেখানে ১ হাজার ৭৭০ জন আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ৩৩ জন। জার্মানিতে গতকাল পর্যন্ত ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি আক্রান্ত হলেও দেশটির চ্যান্সেলর মেরকেল বলেছেন তার দেশের ৭০ শতাংশ মানুষই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।
কানাডায় করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। গত কয়েক দিনে দেশটিতে ৯৩ জনকে করোনা সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ১০ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন এবং মারা গেছেন অন্তত ৩১ জন।