চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রি-কোয়ার্টার থেকেই বাদ পড়ে গেল গতবারের রানার্স আপ, হোসে মরিনহোর দল টটেনহ্যাম হটস্পার। মঙ্গলবার রাতে দ্বিতীয় লেগে জার্মান ক্লাব আরবি লিপজিগ ইংলিশ ক্লাবকে ৩-০ গোলে হারিয়ে উঠে গেছে শেষ আট-এ। দুই লেগ মিলে ৪-০ তে হেরে বাদ পড়ে স্পার্সরা।
অন্যদিকে ‘আতালান্তা রূপকথা’ চলছেই। প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে এসেই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে ইতালীয় ক্লাবটি। নিজেদের মাঠে ৪-১ গোলে প্রথম লেগ জয়ের পর দর্শকশূন্য ভ্যালেন্সিয়া স্টেডিয়ামে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে স্প্যানিশ প্রতিপক্ষকে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ইতালিয়ানদের আনন্দের এই উপলক্ষ এনে দিতে পেরে খুশি আতালান্তা।
বিধ্বস্ত টটেনহ্যাম
মূল দুই খেলোয়াড় হ্যারি কেইন ও সন হিয়ুন মিন ইনজুরির কারণে দলের বাইরে আগে থেকেই। লিপজিগের রেড বুল অ্যারেনায় মাঠে নামার আগে আরেক ফরোয়ার্ড স্টিভেন বার্গউইন এবং ডিফেন্ডার ডাভিনসন সানচেজও চোটের কারণে ছিটকে যান। নিজেদের মাঠে ০-১ গোলে পরাজিত মরিনহোকে দুর্বল দল মাঠে নামাতে হয় দ্বিতীয় লেগেও। ২১ মিনিটের মধ্যে দু’গোল করে কোয়ার্টার প্রায় নিশ্চিত করেন সাবিতজার। তৃতীয় গোল ৮৭ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ইমিল ফরর্সবার্গের। ম্যাচ শেষে টটেনহ্যামের মিডফিল্ডার ডেলে আলি বলেন, ‘অনেক বলই তারা আগে দখলে নিচ্ছিল। আমাদের মানসিকতা যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না। আমাদের লড়াই করতে হতো, যা ঠিক মতো করিনি। এবং তার ফলাফল পেয়েছি। দুই গোলের পর ফিরে আসাটা কঠিন ছিল। সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইছি।’
করোনাভাইরাসের কারণে অনেক ম্যাচ দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে হলেও লিপজিগের মাঠে সমর্থকদের প্রবেশে ছিল না কোনো বাধা। লিপজিগ দলটির শুরু ২০০৯ সাল থেকে, রেডবুল কোম্পানির হাত ধরে। পঞ্চম ডিভিশন দল হিসেবে লাইসেন্স পায় তারা। ৭ বছর পরই তারা উঠে আসে বুন্দেসলিগায়। পরের মৌসুমেই তারা যোগ্যতা অর্জন করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার। আর তিন বছরের মাথাতেই তারা উঠল কোয়ার্টারে। কোচ জুলিয়ান নাইগেলসন দলটির দায়িত্ব নেন ২০১৯-এর জুলাইয়ে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বুন্দেসলিগা ম্যাচের চেয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আমরা ভালো খেলছি। এখন আমরা কোয়ার্টারের ড্রয়ের অপেক্ষা করছি।’
এদিকে মরিনহো বলেছেন, ‘আমরা প্রথমে কিছু ভুল করেছি, যাতে তারা গোল করে। তারপর আমাদের গোল করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের (লিপজিগ) শারীরিক সক্ষমতা দুর্দান্ত। আক্রমণেও দ্রুত।’ দলের খেলোয়াড়দের ইনজুরি নিয়ে চিন্তিত মরিনহো। আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলতে পারবেন কি না তা নিয়েও আছে অনিশ্চয়তা। এই মুহূর্তে ৪১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের অষ্টম স্থানে স্পার্সরা। ‘মানুষ এটাকে (ইনজুরি) বলতে পারে অজুহাত দেখাচ্ছি। কিন্তু এমনটা সবার জন্যই কঠিন। আমাদের আরও ম্যাচ বাকি আছে, দেখা যাক কী হয়।’ বলছিলেন স্পেশাল ওয়ান।
ইলিচিচের ৪ গোল
দুই লেগ মিলে আতালান্তার ৮-৪ গোলের জয়ে বড় অবদান সেøাভেনিয়ার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার জোসিপ ইলিচিচের। প্রথম লেগে করেছিলেন এক গোল। মঙ্গলবার দলের চার গোলের চারটিই করেছেন তিনি।
ভ্যালেন্সিয়া ডিফেন্ডার মুক্তার দিয়াখাবি দু’বার পেনাল্টি পাইয়ে দেন আতালান্তাকে। এর প্রথমটি ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে, গোল করেন ইলিচিচ। ২১ মিনিটে গোল শোধ দেন কেভিন গামেইরো। ৪৩ মিনিটে আবারও পেনাল্টিতে দলকে এগিয়ে দেন ইলিচিচ। ৫১ মিনিটে তা শোধ দেন গামেইরোই। ৬৭ মিনিটে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন ফেরান টোরেস। তখনো বাকি ছিল ইলিচিচ শো। ৭১ ও ৮২ মিনিটে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন ৩২ বছরের ইলিচিচ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউটে চার গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হলেন ইলিচিচ। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সবশেষ ১২ ম্যাচে ১৬ গোল করলেন ইলিচিচ। আর সবশেষ ১২ ম্যাচের ৬টিতে চার বা তার বেশি গোল করেছে। আর সবশেষ ৭ ম্যাচে গোল করেছেন ২৮টি।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজানোর পর খেলোয়াড়রা টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে শার্ট তুলে ধরেন, যেখানে লেখা ছিল ‘বেরগামো, দিস এস ফর ইউ’ (বেরগেমো এটা তোমাদের জন্য)। আতালান্তার জয়ের পর ক্লাব ভাইস প্রেসিডেন্ট লুকা পেরকাসি বলেছেন, ‘বেরগামোসহ পুরো ইতালি থেকে আমরা বার্তা পেয়েছি। শুধু ফুটবল নয়, পুরো শহরের এবং দেশের জন্য এটা কঠিন এক সময়। মানুষকে দু’ঘণ্টার জন্য আনন্দ দিতে পেরে খুশি আমরা।’ আতালান্তার কোচ জিয়ান পিয়েরো গাসপেরিনি বলেন, ‘আমরা জানি বেরগামো থেকে অনেকেই আমাদের (খেলা) দেখেছে। অনেক বার্তা এসেছে, হাসপাতালের ডিরেক্টররাও মেসেজ দিয়েছে। আমরা খুশি তাদের কিছু আনন্দঘন মুহূর্ত উপহার দিতে পেরে।’ আতালান্তা ক্লাবটি ইতালির বেরগামো শহরের, জনসংখ্যার দিক দিয়ে যা ইতালির শীর্ষ ৩০ শহরের মধ্যেও নেই। কিন্তু এরই মধ্যে সেখানে ১২৪৫ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।