আতঙ্কে ঢাবি শিক্ষার্থীরা

সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে নভেল করোনাভাইরাস। ইতিমধ্যে বাংলাদেশেও তিন জনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে এই ভাইরাস। এরপর থেকেই গোটা দেশের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। আবাসিক হলগুলোর গণরুমে একসঙ্গে অনেকের অবস্থান ও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জমায়েত নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন ছাত্র-ছাত্রীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান মেডিকেল অফিসার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভাইরাস মোকাবিলায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জনসমাগমস্থল এড়িয়ে চলা, করমর্দন ও কোলাকুলি থেকে বিরত থাকতেও বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে তার প্রতিটি কাজ নিয়মিত করছে শিক্ষার্থীরা। চাইলেও এসব বিষয় এড়িয়ে চলতে পারছে না তারা। ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মতো সব উপাদান বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিদ্যমান বলে মনে করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জনসমাগম এড়াতে বলা হলেও একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীকে ক্লাস করতে হচ্ছে ও হলে থাকতে হচ্ছে। আবাসিক হলগুলোর প্রতিটি গণরুমে প্রায় ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থী একসঙ্গে থাকছে। এছাড়াও প্রতিদিন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানগুলোতে অনেক শিক্ষার্থী সমবেত হচ্ছে। নিজেদের মধ্যে কুশল বিনিময় করতে করমর্দন করছে। মহামারী আকারে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আগেই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে তারা।

সরেজমিন দেখা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার অন্যান্য দিন অপেক্ষা ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ছিল কম। কয়েকটি বিভাগে শিক্ষকরা পূর্বনির্ধারিত ক্লাস বাতিল ঘোষণা করেছে। করোনা আতঙ্কে ক্যাম্পাস ত্যাগ করছে অনেক শিক্ষার্থী। টিএসসি এলাকায় লোকসমাগমও ছিল অনেক কম। সেখানকার এক চায়ের দোকানদার বলেন, ‘বাংলাদেশে করোনা আসার পর থেকে

লোকসমাগম অনেক কমে গেছে। দোকানে বেচাকেনা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইমরান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সব উপাদান এখানে রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী একসঙ্গে ক্লাস করছি, হলে থাকছি, একই টেবিল ও একই প্লেটে অনেকে খাচ্ছি। ফলে ভাইরাসটি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে সব থেকে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে গণরুমের শিক্ষার্থীরা। গণরুমে একজনের শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করলে রুমের সবাই আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রাশাসনের কাছে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করার দাবি জানাচ্ছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. সারওয়ার জাহান মুক্তাফী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেহেতু এখনো পর্যন্ত ভাইরাসটির কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি, তাই সবাইকে সাবধানে থাকতে হবে। তাই শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে হল ও ডিপার্টমেন্টগুলোতে সচেতন বার্তা পাঠিয়েছি।’

গণরুমের শিক্ষার্থীরা করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেহেতু একরুমে অনেক শিক্ষার্থী থাকে তাই তারা একটু ঝুঁকিতে থাকবে। যদি একজন আক্রান্ত হয় তাহলে অনেকেই আক্রান্ত হতে পারে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা যদি সবক্ষেত্রে দায়িত্বশীল, সচেতন ও সতর্ক থাকি তাহলে সমাজের অনেক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়ানো সম্ভব। করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে এ বিষয়ে সচেতনতা ও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।’