চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও ধর্ষণ মামলার এক আসামিকে জামিন দেওয়ায় ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক বেগম কামরুন নাহারকে তলব করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আগামী ২ এপ্রিল তাকে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই মামলার নথি আনিয়ে শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
এ ছাড়া ওই ধর্ষণ মামলার আসামি আসলাম শিকদারকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ওই জামিনের আদেশ বাতিল করেছে আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে তাকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রোগ্রাম প্রডিউসার আসলাম শিকদারের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর হাতিরঝিল থানায় মামলা করা হয়। ঘটনার দিনই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় গত বছর ১৮ জুন হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ জুন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত তার জামিন স্থগিত করে। তবে জামিনের ওপর স্থগিতাদেশ থাকার পরও গত ২ মার্চ ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক বেগম কামরুন নাহার আসামিকে জামিন দেন।
বিষয়টি গতকাল আপিল বিভাগের নজরে আনেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি আদালতকে বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিতাদেশ থাকার পরও আসামিকে নি¤œ আদালতে জামিন দেওয়া আদালত অবমাননার শামিল।’ এ সময় প্রধান বিচারপতি ওই ধর্ষণ মামলার নথি আনার আদেশ দেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় ওই নথি আপিল বিভাগে উপস্থাপন করা হয়। এরপর উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ বিচারককে তলবের এ আদেশ দেয়।