পদ্মায় বিলীন আড়াই হাজার বিঘা ফসলি জমি

পাবনায় পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে তীরবর্তী গ্রামগুলোতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে অসময়ের ভাঙনে তলিয়ে গেছে সদর ও সুজানগর উপজেলার অন্তত ২০ গ্রামের কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ছত্রচ্ছায়ায় প্রকাশ্যে এমন কা- ঘটলেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ প্রশাসনের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগীদের হুমকি-ধামকি এমনকি হত্যাচেষ্টার ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন দিশেহারা সর্বস্বান্ত কৃষকরা।

ভুক্তভোগী গ্রামবাসী জানান, পাঁচ বছর ধরে পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা থেকে সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ পর্যন্ত পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে বিক্রি করছে প্রভাবশালীরা। আর এতে পাবনা সদরের বাহিরচর, কোলচরী, চরভবানীপুর, বাগচীপাড়া, ভাদুরডাঙ্গী, সুখচর; সুজানগর উপজেলার চর খলিলপুর, নাজিরগঞ্জ, হাজারবিঘা, বিশ্বনাথপুর, সাগরকান্দি, চরসুজানগরসহ পদ্মাপাড়ের অন্তত ২০ গ্রামে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। অসময়ের এমন ভাঙনে গ্রামগুলোতে এরই মাঝে তলিয়ে গেছে উঠতি রবিশস্যসহ প্রায় আড়াই হাজার বিঘা ফসলি জমি। জীবিকা অর্জনের একমাত্র সম্বল হারিয়ে এখন পাগলপ্রায় চাষিরা।

অভিযোগ উঠেছে, ২০১০ সালে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় পাবনা জেলা প্রশাসন বালুমহাল ইজারা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এর কিছুদিন পর থেকে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বালু উত্তোলন শুরু করে কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের একটি সিন্ডিকেট। চরখলিলপুর গ্রামের কৃষক জিলাল ফকির ও বাহিরচর গ্রামের হোসেন আলী জানান, তারা বালু তোলা বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান।

চরতারাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হক টুটুল বলেন, ‘বালু উত্তোলনের সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত নই।’ ভাঁড়ারা ইউপির চেয়ারম্যান আবু সাইদ খান বলেন, ‘রাজনৈতিক ঈর্ষা থেকেই বারবার আমার নাম জড়ানো হয়।’ পাবনা সদর থানার ওসি নাসিম আহমেদ বলেন, বালি উত্তোলনের সঙ্গে পুলিশ কোনোভাবেই জড়িত নয়।