বাংলাদেশের মেয়ে সাদিয়া নাবিলার অভিষেক হয় বলিউডের সিনেমা দিয়ে। তার অভিনীত প্রথম বাংলাদেশি সিনেমা ‘মিশন এক্সট্রিম’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সিনেমাটি নিয়ে তিনি কথা বললেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত
মিশন এক্সট্রিমে যুক্ত হওয়ার গল্প?
আমি তো অস্ট্রেলিয়ায় থাকি। ‘মিশন এক্সট্রিম’ টিমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় আমার সঙ্গে। এরপর গত বছরের মার্চে দেশে আসি। তখন প্রথমে গ্রুমিংয়ে অংশ নিই। এরপর শ্যুটিং করি।
আপনার চরিত্র নিয়ে জানতে চাই?
এই সিনেমায় আমাকে আর আরিফিন শুভকে পুলিশের চরিত্রে দেখা যাবে। আমরা একে অপরের সঙ্গে কাজের সূত্রে আবদ্ধ থাকি। এর বাকিটা পর্দায় দেখা যাবে।
আরিফিন শুভর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
আরিফিন শুভ অসাধারণ একজন অ্যাক্টর। মজার একজন মানুষ তিনি। অনেক ভালো হিউম্যান বিয়িং। কাজের সময়ে তিনি অনেকটাই নিবেদিতপ্রাণ। কাজ করার সময় দেখেছি, তিনি কখনই নিজেকে হিরোসুলভ ভাব নেননি। শুধু নিজের কাজটা নয়, সহকর্মীদের কাজটাও যেন ভালো হয় সেই বিষয়েও তিনি খেয়াল রাখতেন, সবাইকে সহায়তা করতেন।
নিজের চরিত্রের জন্য প্রস্তুতি...
এই চরিত্রে অভিনয় করার জন্য অনেক দিন নিজে নিজে প্রস্তুতি নিয়েছি। এরপর শ্যুটিং শুরুর আগেও ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। সানী সানোয়ার পুলিশের লোক। তিনি নিজেই আমাদের ট্রেইনআপ করিয়েছেন, নানা পরামর্শ দিয়েছেন।
বলিউড থেকে ঢালিউডে...
এটাকে নিচে নেমে যাওয়া বলব না। বলিউড নয়, মূলত দেশের একটি সিনেমায় কাজ করার ইচ্ছে ছিল দীর্ঘদিনের। কিন্তু ভাগ্যগুনে প্রথম কাজটা করা হয়ে যায় বলিউডে। এই সিনেমার মাধ্যমে সেই স্বপ্নটা পূরণ হলো। যাই হোক, এই সিনেমাটা কিন্তু কোনো অংশে কম হবে না। যারা সিনেমাটি দেখবেন তারাই এটার প্রশংসা করতে বাধ্য হবেন। দেখলেই সবাই বুঝবেন কেন সিনেমাটা করেছি। এই সিনেমাটা আর দশটা সাধারণ সিনেমার মতো নয়। এর আগেও সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছি কিন্তু কাজ করিনি। এই সিনেমার ক্যারেক্টারটা ভিন্ন বলেই কাজ করেছি। পুলিশের স্পেশাল ফোর্সে আমাকে দেখা যাবে।
বলিউডের টিমের সঙ্গে ‘মিশন এক্সট্রিম’ টিমের পার্থক্য?
বলিউডের সেটা ছিল আমার প্রথম সিনেমা। তার আগে কিন্তু কখনই জানতাম না সিনেমার কাজ কীভাবে হয়। তো ওদের সঙ্গে কাজ করে বুঝেছি যে সিনেমা কীভাবে নির্মাণ করা হয়। আর ‘মিশন এক্সট্রিম’-এ কাজ করার জন্য যেদিন দেশে আসি তারপর থেকেই তারা আমাকে আপন করে নিয়েছে। ফলে বলিউডের ওই টিমের সঙ্গে এই টিমের কোনো কমপেয়ার করব না। তবে আমি বলব, এই টিমটা আমাকে যথেষ্ট হেল্প করছে। সবাই আমাকে আপন করে নিয়েছে, এটাই বড় কথা।
‘পেরেশান পারিন্দা’র রেসপন্স কেমন ছিল?
মিস ইন্ডিয়া ওয়ার্ল্ডওয়াইড প্রতিযোগিতায় ফার্স্ট রানার আপ হওয়ার পর বলিউডের ওই সিনেমাটার প্রস্তাব পাই। আমাদের সিনেমাটা ছিল অনেকটা ডকুমেন্টারি সিনেমার মতোই। আর সিনেমাটা করার আগে কখনই ভাবিনি সিনেমাটা কতটা রেসপন্স পাবে। তবে সিনেমাটা ইন্ডিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডে দেখানো হয়েছে। এটাকে বম্বের আর দশটা সিনেমার সঙ্গে তুলনা করব না। যারা দেখেছেন তারা প্রশংসা করেছেন। সে জন্য আমি হ্যাপি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা?
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সিনেমা নিয়েই। আপাতত দেশি সিনেমার প্রজেক্ট নিয়েই ভাবছি।