করোনায় অর্থনীতিতে মন্দার ভয়

‘বাজুকা’ ছুড়ল জার্মানি

করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত জার্মান ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যত খুশি ঋণ নিতে পারবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী ওলফ শুলজ, যাকে ‘বাজুকা’ বা ট্যাংকবিধ্বংসী রকেট নামে উল্লেখ করেছেন তিনি। করোনাভাইরাসের কারণে ইউরোজোনের বৃহৎ অর্থনীতির দেশটিতে যাতে মন্দার আঁচড় না পড়ে সে জন্য ৫৫০ বিলিয়ন ইউরো বা ৫৫ হাজার কোটি ইউরো প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই জার্মানির সবচেয়ে বড় প্রণোদনার উদ্যোগ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫৪ লাখ কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের চলতি অর্থবছরের বাজেটের প্রায় ১০ গুণ।

জার্মান সরকার করোনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের খরচে কোনো কার্পণ্য করা হবে না বলে জানায়। একই সঙ্গে অর্থনীতিকে করোনার প্রভাব থেকে সার্বিক সুরক্ষা দিতেও বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়।

জার্মানির বড় অঙ্কের প্রণোদনা ঘোষণার পরেই ইউরোপীয় কমিশন আঞ্চলিক বাজার ধস নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার অঙ্গীকার করে। খবর ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, বিজনেস ইনসাইডার ও মেইল অনলাইনের।

ইউরোপের অর্থনৈতিক ভরকেন্দ্র জার্মানির অন্যতম প্রধান বৈদেশিক বাণিজ্য সহযোগী দেশ চীন। কিন্তু করোনার কারণে সেখানেও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির চাহিদা কমে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জার্মানির ভারী শিল্প ও প্রকৌশল খাতে। পাশাপাশি করোনাভাইরাস বিস্তারের কেন্দ্র এখন ইউরোপ হওয়ায় তা জার্মানিতে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে।

এ অবস্থায় বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ অর্থনীতির দেশটি বহু গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন ও বাণিজ্যমেলা স্থগিত করে। পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে লাইপসিশ বইমেলা, করা হয়েছে  হানোফার শিল্পমেলাও। খোদ নিজ দলের সম্মেলন পিছিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল।

জার্মান কালচারাল কাউন্সিল বলছে, বাণিজ্যমেলাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ায় সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম খাত ‘ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে।

তবে ইতালির সাম্প্রতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেই অগ্রিম প্রস্তুতিতে কোনো ত্রুটি রাখতে চাইছে না জার্মান সরকার। এর আগে ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ থেকে সব ধরনের পর্যটন নিষিদ্ধ করে। এটাও জার্মান অর্থনীতির জন্য আরেক ধাক্কা। পাশাপাশি দেশটির কাছ থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া ইতালি ও গ্রিসের অর্থনীতি বড় আকারের মন্দার মুখে পড়তে পারে।

ইউরোপীয় কমিশন প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়েন এই উদ্বেগ চেপে রাখেননি। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, করোনার ফলে সৃষ্ট সংকট ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর অর্থনীতির ভিত্তি ধরে শক্ত ঝাঁকুনি দিচ্ছে। এ অবস্থায় সদস্যদেশগুলোকে তাদের প্রয়োজন অনুসারে সরকারি প্রণোদনা চালু করার পর্যাপ্ত স্বাধীনতা দেওয়া হবে।

গত শুক্রবার জার্মান অর্থমন্ত্রী ওলফ শুলজ করোনায় প্রভাবিত জার্মান সব শিল্পে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক অনুসরণ না করার কথা জানান। এর মানে সরকার নিজ সাধ্য অনুসারে প্রয়োজনীয় কর রেয়াত ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সঞ্চালনের উদ্যোগ নেবে।