শিশুর ডায়রিয়ায় করণীয়

ডায়রিয়া শিশুদের খুবই সাধারন স্বাস্থ্য সমস্যা। চিকিৎসকদের মতে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনবার বা তার অধিক পাতলা পায়খানা হলে তাকে ডায়রিয়া বলা হয়। বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া কিংবা পরজীবীর সংক্রমণে খাবার ও পানির মাধ্যমে ডায়রিয়ার জীবাণু শিশুর শরীরে প্রবেশ করে।

লক্ষণ : ২৪ ঘণ্টায় তিনবার বা এর বেশি পানিসহ পাতলা পায়খানা হওয়া, শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া, খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া এর লক্ষন। ডায়রিয়া শুরুর প্রথম দিকে শিশুর বমি হতে পারে, পরে অবশ্য অনেক ক্ষেত্রে বমি কমে যায়, অনেক সময় শিশুর জ্বর থাকতে পারে। তবে জ্বর এলেও তা খুব একটা তীব্র হয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শরীর হালকা গরম থাকে।

শিশুর খাবার : ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে শিশুর খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনমতো ক্যালরি, আমিষ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে কি না, তা খেয়াল রাখতে হবে। খাওয়ানোর সময় শিশু যদি বমি করে তাহলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে তাকে আবার খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে। শিশুর ডায়রিয়া সেরে যাওয়ার পরও তাকে ভিটামিন ও খনিজ পরিপূরক দিতে হবে। কাঁচা কলা খোসাসহ সিদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে ভর্তা বানিয়ে খাওয়ালে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

প্রতিরোধ : ডায়রিয়াজনিত পানিস্বল্পতার লক্ষণগুলো হচ্ছে

অস্থির ভাব, খিটখিটে মেজাজ বা নিস্তেজ হয়ে যাওয়া; চোখ গর্তে ঢুকে যাওয়া; তৃষ্ণার্ত ভাব বা একেবারেই খেতে না পারা; শরীরের চামড়া ঢিলা হয়ে যাওয়া-এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত কাছাকাছি কোনো হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি শিশুকে বারবার তরল খাবার যেমন : ডাবের পানি, চিড়ার পানি, ভাতের মাড়, টক দই, ফলের রস, লবণ-গুড়ের শরবত ইত্যাদি খেতে দিতে হবে। শিশু বুকের দুধ খেলে তাকে ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।

চিকিৎসা : ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুরা সাধারণত সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠে। শিশুর পানিস্বল্পতা প্রতিরোধে খাবার স্যালাইন এবং স্বাভাবিক খাবারই যথেষ্ট। ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুকে দিনে একটি করে টানা ১০ দিন জিংক ট্যাবলেট সেবন করাতে হবে। জিংক ডায়রিয়ার তীব্রতা কমায় এবং আন্ত্রিক কোষসমূহের ডায়রিয়াজনিত ক্ষত দ্রুত সারিয়ে তোলে। এ ছাড়া জিংক অন্ত্রের পানি ও খনিজ লবণ শোষণ ক্ষমতা বাড়ায়। ডায়রিয়া যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে না সারে, তবে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করানো উচিত।

ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুকে কখনো চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেওয়া যাবে না। দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের রোটা ভাইরাসের সংক্রমণজনিত ডায়রিয়া হলে দেড় থেকে ছয় মাস বয়সের মধ্যে এক মাস বিরতিতে দুই ডোজ রোটা ভাইরাসের টিকা খাওয়াতে হবে।