ছেলেবেলায় দেখেছেন আবাহনী-মোহামেডানের দ্বৈরথ নিয়ে কী উত্তেজনা। শুনেছেন অনেক গল্প। বেড়ে ওঠার পথে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সমর্থক হয়ে ওঠেন। আরও পরে সাদা-কালোর দলকে ছাপিয়ে আকাশি-নিলের আবাহনীর শ্রেষ্ঠত্ব দেখতে দেখতে কখন যেন আবাহনীর সাপোর্টার হয়ে গেছেন। আগের প্রিয় মোহামেডানে কখনো খেলা হয়নি। মাত্র গতকাল ঢাকা লিগে এখনকার প্রিয় দল আবাহনীর জার্সিতে হলো অভিষেক। এবং সেই অভিষেকের দিনে ১২৭ রানের দারুণ ইনিংস খেলে মুশফিকুর রহিম সবাইকে ছাড়িয়ে সেরা।
গতকাল শুরু হয়েছে ২০১৯-২০২০ ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ। উদ্বোধনী দিনে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে মুশফিকের সেঞ্চুরিতে ভর করে আবাহনী (২৮৯/৭) উড়িয়ে দিয়েছে পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবকে। জয় ৮১ রানের। মুশফিক ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’। লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের শুরুটা হলো সেরার মতো করেই।
বিকেএসপিতে গেলবারের রানার্সআপ লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের লিগ শুরু হয়েছে হার দিয়ে। বোলারদের ক্যারিশমায় তাদের বিপক্ষে ২৫ রানের জয় তুলে নিয়েছে ওল্ড ডিওএইচএস। জীবনের প্রথম ‘লিস্ট এ’ ম্যাচ খেলতে নেমেই ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ ডানহাতি ফাস্ট বোলার অভিষেক দাস। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জেতা খেলোয়াড় ১৪ রান করার পর নিয়েছেন দামি ৩ উইকেট। ফতুল্লায় খুব কাছে গিয়েও ব্রাদার্স ইউনিয়ন জয় পেল না। তাদের বিপক্ষে ৮ রানের জয় প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবের। ১১০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা তাইবুর রহমান।
মিরপুরে আগে ব্যাট করে আবাহনী ৭ উইকেটে তুলেছিল ২৮৯ রান। জবাবে ৪৮.৪ ওভারে ২০৮ রানে শেষ পারটেক্স। আবাহনী তারায় ভরা দল। সকালের আর্দ্রতা উপেক্ষা করে মুশফিক টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন। রনি হোসেন ও জয়নুল ইসলামের বোলিংয়ে শুরুতে বিপদে পড়ে আবাহনী। পারটেক্স এতটা নিশ্চয়ই আশা করেনি। দুই ওপেনার লিটন দাস ও নাঈম শেখ ফিরেছেন কোনো রান না করে। ম্যাচের ৭ বলের মধ্যে। মুশফিক এসে অন্য প্রান্ত থেকে ফিরে যেতে দেখেন নাজমুল হোসেন শান্ত (১৫), আমিনুল ইসলাম বিপ্লব (১৪) ও আফিফ হোসেন ধ্রুবকে (৩)।
৬৭ রানে ৫ উইকেট নেই। এমন চাপে মুশফিকের প্রথম রান আসে তার খেলা ২৪তম বলে। গেলবারের আবাহনী অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন (৬১)-এর সঙ্গে মুশফিক ষষ্ঠ উইকেটে গড়ে তোলেন ১৫৫ বলে ১৬০ রানের দারুণ মূল্যবান জুটি। আসলে ম্যাচ জেতানো জুটিও। ৭৫ বলে ফিফটি করার পরের ৩৬ বল খেলে সেঞ্চুরিতে পৌঁছেছেন মুশফিক। বাউন্ডারিতে ১০০ পার। ১২৪ বলে ৪ ছক্কা ১১ চারে ১২৭ করার পর মুশফিক হলেন জয়নুলের তৃতীয় শিকার। দ্বাদশ ‘লিস্ট এ’ সেঞ্চুরি মুশফিকের। তার বিদায়ের পর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৫ ছক্কায় ১৫ বলে ৩৯ বলের হার না মানা বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন।
মেহেদী হাসান রানা ও সাইফউদ্দিন শুরুতে উইকেট এনে দেন আবাহনীকে। নাজমুল হোসেন মিলন ৫৩ আর তাসামুল হক ৪৩ করলেও টিকতে পারেননি কেউ। বড় ইনিংস, বড় জুটি গড়তে ব্যর্থ। রানার বোলিং বিশ্লেষণ ৯.৪-০-৫৫-৩। তাইজুল ইসলামের ২ উইকেট। ১টি করে সাইফউদ্দিন ও বিপ্লবের।
বিকেএসপিতে ওল্ড ডিওএইচএস আগে ব্যাট করে ৪৯ ওভারে অলআউট ২৩০ রানে। জবাবে, শেষ ওভারের শেষ বলে গুটিয়ে যাওয়ার আগে ২০৫ করে রূপগঞ্জ। একজন করে ওপেনার, মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানকে শিকার করেছেন ১৮ বছরের অভিষেক। সিনিয়র পর্যায়ে এটা ছিল তার প্রথম ম্যাচ। বোলিং বিশ্লেষণ ৯-১-৪৪-৩।
৭ উইকেটে ২৩৮ রান করে জয়ের আশা সবসময় করা যায় না। ফতুল্লায় ওই সংগ্রহ ছিল প্রাইম দোলেশ্বরের। মিডল অর্ডারের তাইবুরের অবদান যেখানে ৯৪ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায় অপরাজিত ১১০। অন্য কেউ ৪০ এর ঘরেও যেতে পারেননি। অবশ্য শেষ কাজটা করেছেন ২১ বছরের ডানহাতি পেসার রেজাউর রহমান। শেষ ওভারে ৯ দরকার ছিল ব্রাদার্সের। কিন্তু প্রথম বলে নাঈম ইসলাম জুনিয়রের পর চতুর্থ বলে ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকীকে (৯৭) আউট করে দোলেশ্বরকে উৎসবে মাতান রেজাউর। তার বোলিং বিশ্লেষণ ৯.৪-০-৩৬-৪।