গাছের ডালে লাশ ঝুলছে। গলা, দুই কান ও যৌনাঙ্গ কাটা। পেটে বিদ্ধ দুটি ছুরি। সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে মাত্র ৫ বছর বয়সী শিশু তুহিন মিয়াকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা সারা দেশে সাড়া ফেলেছিল। হত্যাকাণ্ডের ৫ মাসের মাথায় মা মনিরা বেগমের মামলায় তুহিনের বাবা আবদুল বাছির (৪০) ও চাচা নাসির উদ্দিনকে (৩৫) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
গতকাল সোমবার সকালে সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার এ রায় দেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তুহিনের অন্য দুই চাচা আবদুল মছব্বির (৪৫) ও জমসেদ আলীকে (৬০) খালাস দেওয়া হয়।
গত বছরের ১৪ অক্টোবর সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কেজাউরা গ্রামে একটি গাছের ডাল থেকে শিশু তুহিনের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন তার মা মনিরা বেগম অজ্ঞাতদের আসামি করে দিরাই থানায় মামলা করেন।
পুলিশ মামলার তদন্তে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য শিশু তুহিন হত্যায় স্বজনদের জড়িত থাকার প্রমাণ পায়। পরে তুহিনের বাবা, তিন চাচা ও চাচাতো ভাই সাহারুল ইসলাম ওরফে শাহরিয়ারকে (১৭) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদের মধ্যে চাচা নাসির ও চাচাতো ভাই সাহারুল আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশ গত ৩০ ডিসেম্বর তুহিনের বাবা-চাচাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত গতকাল এ রায় দিল। একই মামলায় গত ১০ মার্চ তুহিনের চাচাতো ভাই সাহারুল ইসলাম কিশোর হওয়ায় আদালত তাকে ৮ বছরের আটকাদেশ দিয়েছে।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুন্নাহার বেগম বলেন, ‘আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারকাজ শেষে রায় হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। এখন দ্রুত রায় কার্যকর দেখতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাবা-চাচার মৃত্যুদণ্ডে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ রায় শিশুর প্রতি নৃশংসতার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’