মৌসুমি খাবার

দিনে গরম, রাতে শীত, দেখতে দেখতে বছরের সেই সময়টা চলেই এলো। একবার গরম, একবার ঠাণ্ডাÑ এ কারণে আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কিছুটা নড়বড়ে হয়ে যায়। যার জন্য সহজেই সর্দি-কাশি, জ্বর, ফ্লু ইত্যাদি রোগ-জীবাণু দেহে প্রবেশ করে। এসব থেকে বাঁচতে ইমিউনিটি সিস্টেম বুস্টিংটা খুব জরুরি। ইমিউনিটি বুস্টিংয়ের কথা উঠলেই মৌসুমি খাবার অর্থাৎ সিজনাল ইটিংয়ের বিষয় চলে আসে। সিজনাল ইটিং বলতে বোঝায়, মৌসুমি ফল, শাকসবজি খাওয়া, অর্থাৎ যে মৌসুম চলছে সে সময় যেসব শাকসবজি পাওয়া যায়, সেগুলো খাওয়াই সিজনাল ইটিং। এখন বাজারে নতুন ঋতুর প্রচুর তাজা শাকসবজি ও ফল পাওয়া যাচ্ছে। যেমন লালশাক, পাটশাক, কলমিশাক, পাতাপেঁয়াজ, করলা, টমেটো, শসা, লেবু, কাঁচা মরিচ, কুমড়া, শজনে, বেল, কুল, চালতা, আমলকী, তরমুজ, সফেদা, আতা, শরিফা ইত্যাদি। সাশ্রয়ী মূল্য এবং তরতাজা এসব সবজি ও ফলে প্রচুর পুষ্টি বিদ্যমান।

মিষ্টি ফল খেলে মুটিয়ে যায় এমন প্রচলিত ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। ফলের চিনি হলো ফ্রুক্টোজ, যা সাধারণ চিনি গ্লুুকোজের তুলনায় দেহে অতি ধীরে শোষিত হয় এবং ফলে থাকা ফাইবার, বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন, মিনেরালস দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পেট পরিষ্কার করে, ত্বক ও চুল সুন্দর করে। ফল ও শাকসবজি খাওয়ার সময় নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখা ভালোÑ

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত ২০০ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিন একটি কলা, কমলা বা লেবু, আমলকী, কোনো এক বা একাধিক মৌসুমি ফল খাওয়া অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর।

শাকসবজি রান্নার সময় অবশ্যই তেল ব্যবহার করতে হবে। শাকসবজিতে থাকা ভিটামিনগুলো ফ্যাট সলিউবল অর্থাৎ এগুলো তেলে দ্রবীভূত হয়ে আমাদের দেহে শোষিত হয়। বড়দের খাবার অল্প তেলে এবং ছোটদের খাবার ন্যূনতম একটেবিল চামচ তেল ব্যবহার করে রান্না করতে হবে।

খোসাসহ গোটাফল খাবার অভ্যাস একই সঙ্গে পেট ও দাঁতের জন্য উপকারী।

প্রতিদিন পাতে লেবু খাওয়ার অভ্যাস করুন। সাইট্রাস জাতীয় ফল দেহে ভিটামিন-সি জোগান দেওয়ার পাশাপাশি আয়রন শোষণে সহায়তা করে। কাঁচা মরিচেও প্রচুর ভিটামিন-সি পাওয়া যায়।

ফল, সবজি ভালোমতো ধুয়ে খাবেন। উচ্চতাপে রান্না করবেন না, সব সময় প্রথমে ধুয়ে তারপর কাটবেন, যথাসম্ভব বড় আকারে কেটে ঢাকা দিয়ে লো টু মিডিয়াম আঁচে রান্না করবেন। সুসিদ্ধ করবেন। দীর্ঘদিন আধা সিদ্ধ, কাঁচা শাক ও সবজি খাওয়া ক্ষতিকর হতে পারে।

প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। এ সময় খাদ্যতালিকায় মাছ-মাংস, প্রসেসড ফুডের পরিমাণ কমিয়ে ফল, শাকসবজি, ডালের পরিমাণ বাড়ান। নিয়মিত মৌসুমি ফল এবং শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস করলে নিজের স্বাস্থ্য এবং ত্বক, চুলের পরিবর্তন নিজেই দেখতে পারবেন। তাই সিজনাল ইটিংয়ের অভ্যাস গড়ে তুলুন, নিজে সুস্থ থাকুন এবং পরিবারকেও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে উৎসাহিত করুন।

অরুণিতা ঘোষাল

বিএস, এমএস, খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগ

গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ

আজিমপুর, ঢাকা

ফোন : ০১৫২১৩২২৯৯৪