বিশ্বকাপ খেলে ফেরার পর আপাতত ছুটির প্রশান্তিতে বাংলাদেশ নারী দলের ক্রিকেটাররা। সূচি চূড়ান্ত হলে আগস্টে এশিয়া কাপ কিংবা সেপ্টেম্বরে এশিয়ান গেমস দিয়েই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরবেন নিগার সুলতানারা। কিন্তু ছেলেদের ক্রিকেটে যেন উল্টো ঝড়! বয়সভিত্তিক থেকে জাতীয় দল সবখানেই একসঙ্গে শুরু হয়েছে ব্যস্ততা। বিশেষ করে হাইপারফরম্যান্স ইউনিট (এইচপি) ও ‘এ’ দলের পাশাপাশি মূল দলের একই সঙ্গে সিরিজ এবং অনুশীলন চলায় কোচ সংকটে চরম বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। উপায় না দেখে চলতে হচ্ছে জোড়াতালি দিয়েই। সংকট মোকাবিলায় নতুন পরিকল্পনা সাজিয়েছে বিসিবি। সাবেক ক্রিকেটারদের কোচিংয়ে ফেরানোর প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি জেলা-বিভাগের কোচদের দ্রুত প্রশিক্ষণ দিয়ে ওপরের স্তরে টেনে তুলতে চায়।
এই লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন ধুঁকতে থাকা গেম এডুকেশন বিভাগকে জাগিয়ে তুলতে তোড়জোড় শুরু করেছে ক্রিকেট বোর্ড। জানা গেছে, এ বিভাগের ভার এবার কাঁধে নিচ্ছেন বিসিবির সহসভাপতি ফাহিম সিনহা। স্থানীয় কোচদের নিয়ে কোচিং প্যানেল সমৃদ্ধ করার কাজও ইতিমধ্যে শুরু করেছেন ফাহিম, ‘গেম এডুকেশন বিভাগ আগেও ছিল, তবে কার্যকর ছিল না। এখন আমরা পরিকল্পনা করেছি, স্থানীয়দের ক্রিকেট বোর্ড থেকেই প্রথম-দ্বিতীয় স্তরের কোচিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। লেভেল-১ কোচিং করানোর মতো কয়েকজন প্রশিক্ষক আমাদের আছে। কিন্তু লেভেল-২ প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রশিক্ষক কম। এ জন্য দেশের বাইরে থেকে একজনকে নিয়ে আসব আমরা।’
এ জন্য নেপালের সাবেক ক্রিকেটার বিনোদ কুমার দাসকে খণ্ডকালীন চুক্তিতে নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। আইসিসির স্বীকৃত প্রশিক্ষক তিনি। জেলা-বিভাগের কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে চলতি মাসেই এসব কোচকে প্রশিক্ষণ দেবেন বিনোদ। এভাবেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে স্থানীয় কোচদের জন্য খুলবে নতুন দুয়ার। ফাহিম বলেন, ‘তাকে (বিনোদ) দিয়ে আমরা জুলাই মাসে একটা কোর্স করাব। পরবর্তী কোর্সগুলো করাবেন নাভিদ নেওয়াজ। তিনিও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রশিক্ষক। জেলা ও বিভাগীয় কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলে তখন তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যাদের সামর্থ্য আছে, যোগ্যতা আছে; তাদের ওপরের দিকে নিয়ে আসা হবে। যত দ্রুত সম্ভব লক্ষ্য দ্বিতীয় স্তরটা করিয়ে নেওয়া। সর্বোচ্চসংখ্যক জেলার কোচকে যদি দ্বিতীয় স্তর করিয়ে দিতে পারি, তাহলে নিচের দিকের ক্রিকেটার অণে¦ষণের প্রক্রিয়াটাও অনেক উন্নত হবে।’
বিদেশ-নির্ভরতা কমানোর কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। শ্রীলঙ্কার নাভিদ নেওয়াজের জায়গায় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচের চেয়ারে এখন হান্নান সরকার, আর পেস বোলিং কোচের দায়িত্বে ডলার মাহমুদ। এ কোচিং প্যানেলের প্রায় পুরোটাই এখন দেশীয় মুখ। তাদের অধীনেই আগামীকাল বিকেএসপিতে যুব দলের অনুশীলন ক্যাম্প শুরু হবে। অনূর্ধ্ব-১৫ দলের দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন। অনূর্ধ্ব-১৭ দলের ভার তুষার ইমরানের কাঁধে।
এদিকে মিরপুরে শুরু হয়েছে এইচপি ইউনিটের ক্যাম্প। অথচ এ বিভাগের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের জাতীয় দলের সঙ্গে জিম্বাবুয়েতে ব্যস্ত। ২০ জুলাই দেশে ফেরার বিমান ধরার কথা তাদের। নিঃশ্বাস ফেলার ফুরসত না দিয়েই ২৭ জুলাই এইচপি দল নিয়ে সালাউদ্দিনকে আবার ছুটতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। এ সফর শেষ হওয়ার আগেই দক্ষিণ আফ্রিকায় যাবে বাংলাদেশ ‘এ’ দলও। সেখানে দুটি চার দিনের ম্যাচ ও তিনটি ওয়ানডে খেলবেন সফরকারীরা। এ জন্য আগামী ১১ জুলাই মিরপুরে শুরু হবে ‘এ’ দলের ক্যাম্প। কিন্তু এ দলের কোচিং প্যানেলে থাকবেন কারা? ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস বলেন, ‘কোচের দায়িত্বে কারা থাকবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। হাইপারফরম্যান্সের কোচরাই সম্ভবত থাকবেন।’ জানা গেছে, এইচপি বিভাগের সহকারী কোচ মিজানুর রহমান বাবুল সামলাবেন ‘এ’ দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব। পেস বোলিং কোচ হিসেবে থাকবেন নাজমুল ইসলাম, ব্যাটিং কোচ রাজিন সালেহ। তবে স্পিন বোলিং কোচের খোঁজ এখনো অধরাই থেকে গেছে।
আব্দুর রাজ্জাক এইচপি দলের সঙ্গী হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাবেন। এ বিভাগের আরেক কোচ সোহেল ইসলাম যাবেন অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে। সেখানে ২০ থেকে ৩০ আগস্ট ৯ দলের টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের মঞ্চে নামবে হাইপারফরম্যান্স ইউনিট। এ সফরে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব সামলাবেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, এখান থেকেই কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু হবে সাবেক এ অধিনায়কের। যদিও সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে যুব এশিয়া কাপ হওয়ার কথা আছে। এর প্রস্তুতির জন্য আগস্টে একটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজের আয়োজন করতে চায় গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগ। কিন্তু অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মেন্টরের দায়িত্ব নেওয়া রিয়াদ তখন এইচপি দলের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় থাকবেন। এ সফরে সহকারী কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন ইমরুল কায়েস। তবে বিকল্প না থাকায় পেস ও স্পিন বোলিং কোচের নাম এখনো ঠিক করতে পারেনি এইচপি ইউনিট।
বিসিবির একজন পরিচালক জানান, সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যে যারা এখনো ক্রিকেটারের সঙ্গে জড়িত আছেন, তাদের খুঁজে বের করে কোচিংয়ে আসার প্রস্তাব দেবে ক্রিকেট বোর্ড।