করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সেবা দিতে নগরের চারটি হাসপাতাল নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।
তিনি বলেছেন, করোনা নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। করোনা মোকাবিলায় ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ১০ সদস্যের গঠিত কমিটির প্রথম সভা হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০০ শয্যা, ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডিতে ৫০ শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রামের রেলওয়ে হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালও ব্যবহার করা যাবে। বুধবার সকালে চসিকের সম্মেলনকক্ষে এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে গত সোমবার করোনা মোকাবিলায় সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর বলেন, চট্টগ্রামে করোনা মোকাবিলায় ইতিমধ্যে প্রত্যেক জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিমানবন্দর হয়ে ৫৬৭ জন চট্টগ্রামে এসেছেন। এদের মধ্যে ১৫৭ জন ওমরা থেকে এসেছেন। পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। যারা হোম আইসোলেশনে যাচ্ছেন তারা দুই ভাগে বিভক্ত। কেউ শহরে থাকছেন আবার কেউ গ্রামের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। যারা গ্রামে যাচ্ছেন তাদের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ এবং চেয়ারম্যানদের জানানো হচ্ছে।
এছাড়া নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও চসিক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও দায়িত্বরত থানাকে জানানো হচ্ছে। এরপরও কোনো ব্যক্তি যদি হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকেন, তাহলে প্রথমে তাদের বুঝানো হবে, অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুমায়ুন বলেন, চমেক হাসপাতালে এখনো কোনো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়নি। এরপরও যেসব রোগীর হাঁচি-কাশি, জ্বর-গলা ব্যথার সমস্যা আছে তাদের জন্য পৃথক রুম করা হয়েছে। সেখানে তাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। করোনা প্রতিরোধে আমরাও প্রস্তুত রয়েছি। সিরিয়াস পেশেন্টের জন্য অর্থাৎ যাদের আইসিইউর প্রয়োজন হবে, তাদের জন্য চমেক হাসপাতালই যথার্থ।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, করোনা প্রতিরোধে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যারা দেশের বাইরে থেকে আসছেন, তাদের তালিকা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে।