বিশ্বব্যাপী মহামারী রূপে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে প্রয়োজনে আন্তঃজেলা যাত্রীবাহী যান চলাচল বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, প্রয়োজনে দেশের কিছু কিছু জায়গা শাটডাউন করা হবে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এরই মধ্যে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগ কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। এ নিয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘পরিবহন মালিকরা হতাশ, যাত্রী কমে গেছে। এগুলো অটোমেটিক্যালি কমে যাবে। করোনাভাইরাসের কারণে প্রয়োজন হলে আন্তঃজেলা যাত্রীবাহী যান চলাচল বন্ধের আমরা ব্যবস্থা নেব।’ অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে যদি শাটডাউন করতে হয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রস্তুতি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে শাটডাউন করা হবে। সবার আগে মানুষকে বাঁচাতে হবে। সেজন্য যা যা করণীয় তা করা হবে, আমরা করব। প্রয়োজনে দেশের কিছু কিছু জায়গা শাটডাউন করা হবে।’
করোনাভাইরাসকে সবার ‘অভিন্ন শত্রু’ আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘রাজনৈতিক যে চিন্তাচেতনাসবকিছুর ঊর্ধ্বে এখন লক্ষ্য করোনা মোকাবিলা। আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় করোনা মোকাবিলায় মাস্ক, ওষুধ, কিটসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হবে। সবার অভিন্ন শত্রু হিসেবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করোনা মোকাবিলা করব। এ সময় রাজনীতি না করে করোনা মোকাবিলায় এগিয়ে আসার জন্য সব দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ করার প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সভা সমাবেশে যাব না। সেজন্য বঙ্গবন্ধুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সীমিত করেছি। টুঙ্গিপাড়ায় মানুষের ঢল নামার কথা, সেখানে মানুষের উপস্থিতি সীমিত করেছি। বিশ্বব্যাপী করোনার যে আতঙ্ক তা সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করব।’
মন্ত্রী জানান, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রোস গেব্রেইয়েসুস গত মঙ্গলবার যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে কথা একটাই ছিলটেস্ট, টেস্ট অ্যান্ড টেস্ট। তিনবার এটি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘টেস্টের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত, আমরাও সেটি অনুসরণ করে এগিয়ে যাব।’