বরিশালে আটকের পর ছাড়া পেল হত্যা মামলার আসামি

বরিশালের গৌরনদীতে হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সাবেক এক জনপ্রতিনিধির দাবি, আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে গত সোমবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

গৌরনদী উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান জানান, গত রবিবার রাতে একটি জুয়ার আসর থেকে দুজনকে আটক করে গৌরনদী থানা পুলিশ। এর মধ্যে বেল্লাল ফকির নামে একজন একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন তিনি। আটকের পরও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

গৌরনদী থানার ওসি গোলাম সরোয়ার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন। আদালত থেকে ওয়ারেন্ট আসার আগ পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের বিধান নেই। সোমবার থানায় বেল্লালের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট পৌঁছালেও আগের দিন রবিবার রাতে তাকে জুয়ার আসর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাই ওই দিন জুয়া খেলার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারির বিষয়টি আমরা জানতে পারিনি।’

গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুর রব হাওলাদার বলেন, ‘গত বুধবার এক গণমাধ্যমকর্মী মারফত বিষয়টি জানতে পেরেছি। পরে খবর নিয়ে জানতে পারি গ্রেপ্তার বেল্লাল একটি হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি। পুলিশ তাকে চিহ্নিত করতে পারেনি। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর গৌরনদী উপজেলায় পূর্ব ডzমুরিয়া গ্রামের শাহ আলম ফকিরের পরিবারের সঙ্গে ঝগড়া হয় প্রতিবেশী বেল্লাল ফকিকের পরিবারের। একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে শাহ আলমের ভাই কবির ফকিকের মাথায় আঘাত করেন বেল্লাল। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ৬ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শাহ আলম ফকির বাদী হয়ে বেল্লাল ফকির ও তার ভাই আহমেদ ফকিরকে আসামি করে একটি মামলা করেন।