প্রাকৃতিক বিবর্তনেই উদ্ভব নভেল করোনাভাইরাসের

নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। এই ভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯ এ আক্রান্ত আর মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। তবে গেল আড়াই মাসে ভাইরাসের চাইতে বেশি ছড়িয়েছে এ নিয়ে গুজব আর আতঙ্ক। জন্ম নিয়েছে অসংখ্য ষড়যন্ত্র তত্ত্বও। বলা হচ্ছিল জীবাণু অস্ত্র হিসেবেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বা ছড়িয়ে গেছে গবেষণার সময়। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে, ভাইরাসটি মানুষ তৈরি করেনি, প্রাকৃতিকভাবে উদ্ভব হয়েছে।

নেচার মেডিসিন সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষকরা করোনাভাইরাসটির জেনোম সিক্যুয়েন্স বিশ্লেষণ করে জেনেছেন নতুন এই তথ্য। গবেষকদের দাবি, সম্ভবত ভাইরাসটি একটি বাঁদুড় বা একটি বনরুই জাতীয় পিঁপড়াভুক প্রাণী থেকে ছড়িয়েছে। টেলিগ্রাফ বলছে, নেচারের এই এই প্রতিবেদন রোগটির উৎপত্তির বিষয়ে সব ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে নাকচ করে দিয়েছে।

ডিসেম্বরের শেষে চীনের উহান শহরে ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত হয়েছিল। এরপর থেকে এটি দ্রুতগতিতে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এখন বিশ্বের প্রায় ১৭০টি দেশের দুই লাখেরও বেশি লোক ভাইরাসটিতে আক্রান্ত এবং নয় হাজারের বেশি লোক এর সংক্রমণে সৃষ্ট রোগে মারা গেছে। গবেষণা প্রতিবেদনটির সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, আমাদের বিশ্লেষণ পরিষ্কারভাবে দেখিয়েছে, সার্স-কভ-টু গবেষণাগারে তৈরি করা হয়নি বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিবর্তন করা ভাইরাস নয়। গবেষক দল ভাইরাসটির ‘স্পর্শ তন্তুর’ দুটি প্রোটিন উপাদান বিশ্লেষণ করেছেন। ভাইরাসটি মানুষ অথবা প্রাণী কোষের সঙ্গে সংযুক্ত হতে ও তার দখল নিতে এই স্পর্শ তন্তুগুলোই ব্যবহার করে।

তারা দেখেছেন, ওই প্রোটিনের নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য মানুষের কোষের সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটাতে এতটাই সক্ষম যে, এটি প্রাকৃতিক নির্বাচনের ফল ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে না, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে এটি তৈরি হয়নি।

গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্ক্রিপস রিসার্চের ইমিউনোলজি ও মাইক্রোবায়োলজির সহযোগী অধ্যাপক ড. ক্রিস্টিয়ান অ্যান্ডারসেন জানাচ্ছেন, ভাইরাসটির ‘ব্যাকবোন’ বা সামগ্রিক মলিক্যুলার স্ট্রাকচার বিশ্লেষণেও এই ফল প্রয়োগ করেছেন তারা। তিনি বলেন, মানুষের শরীরে রোগ সৃষ্টির জন্য পরিচিত একটি প্রাকৃতিক ভাইরাসের ব্যাকবোন থেকেই তা করতে হবে। কিন্তু মানুষকে সংক্রমিত করার জন্য পরিচিত অন্য ভাইরাসের সঙ্গে নভেল করোনাভাইরাসের ব্যাকবোনের ‘যথেষ্ট পার্থক্য’ আছে।