মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লাঘাটা নদীর খনন কাজ চলছে ধীরগতিতে। তাছাড়া খননকাজে নদীর পেটে যাচ্ছে কৃষকের জমি। নদী খননে সেচ সমস্যার কারণে এবারের বোরো আবাদ বঞ্চিত হয়েছেন শতাধিক কৃষক। বর্ষার আগে নদীটির খনন সম্পন্ন না হলে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় লাঘাটা নদীর কেওলার হাওর এলাকা পরিদর্শনকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই প্রতিনিধির কাছে কৃষকসহ স্থানীয়রা এসব দাবি তুলে ধরেন।
গত শুক্রবার ঘুরে দেখা যায়, বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে লাঘাটা নদীর কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর ও পতনঊষার ইউনিয়ন অংশে খননকাজ চলছে। তবে নদী খননে কৃষকদের ভোগদখলকৃত এসএ রেকর্ডীয় জমি নদীর বাঁধের জন্য গিলে নিচ্ছে। তাছাড়া নদী খননের জন্য সেচ সুবিধার অভাবে এ বছর কৃষকদের বৃহৎ একটি অংশ বোরো আবাদ বঞ্চিত রয়েছেন। কৃষকরা একদিকে নদীর পেটে জমি হারাচ্ছেন, অন্যদিকে বোরো আবাদ বঞ্চিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করছেন।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত বছর লাঘাটা নদী খননের জন্য সার্ভে কাজ সম্পন্ন হয়। নানা জটিলতায় খননকাজ শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হলেও গত বছর ১১ ডিসেম্বর নদী খননকাজ শুরু হয়। দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়ন থেকে কমলগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের লাঘাটা নদীর উৎসস্থল পর্যন্ত ২৪ কিমি খননকাজ চলছে। দুই উপজেলায় খননের জন্য ১১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেড কমলগঞ্জ উপজেলা অংশে খননকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কমলগঞ্জে অংশে নদী খননের প্রাক্কলিত মূল্য ৬ কোটি ৩৪ লাখ ৩ হাজার ৮০৭ টাকা। এ কাজ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছর ৩০ নভেম্বর। তবে কাজের মান ও নানা সমস্যার বিষয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা সিকান্দর আলীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুখলেসুর রহমান ও উপসহকারী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া লাঘাটা নদীর কেওলার হাওর এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময়ে সিকান্দর আলীসহ অর্ধশতাধিক কৃষক তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
উপজেলার পতনঊষারের কৃষক মফিজ মিয়া, মসুদ মিয়া, ধূপাটিলা গ্রামের কৃষক আক্তার মিয়া, ফারুক মিয়া, শওকত মিয়া, কেছুলোটি গ্রামের আকলুছ মিয়া জানান, লাঘাটা নদী খনন যেভাবে ধীরগতিতে চলছে তাতে বর্ষার আগে সম্পন্ন না হলে কেওলার হাওর এলাকায় বর্ষার পানিতে নদীর বাঁধ ধসে আবার নদী ভরাট হয়ে পড়বে। দ্রুতগতিতে নদী খনন প্রয়োজন বলে তারা দাবি করেন। তারা আরও বলেন, নদী খননের জন্য আমাদের ভোগদখল করা এসএ রেকর্ডীয় আবাদীয় জমির বেশকিছু অংশ নদীর পেটে চলে যাচ্ছে। তারা আরও বলেন, এ বছর নদী খননের জন্য সেচ সমস্যার কারণে আমরা বোরো আবাদও করতে পারছি না। ফলে সবদিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, বর্তমানে নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। আগামী নভেম্বর পর্যন্ত কাজের সময় রয়েছে। যথাসময়ের মধ্যেই সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পন্ন হবে।