হোম কোয়ারেন্টাইনে দুই ক্রিকেটার ও চিকিৎসক

হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটার। সাদমান ইসলাম ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। তাদের নিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফেরা বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরীও গেছেন হোম কোয়ারেন্টাইন।

ওপেনিং ব্যাটসম্যান সাদমান ৬ টেস্ট খেলে ফেলেছেন। তার কবজিতে সমস্যা ছিল। পেস বোলিং অলরাউন্ডার মৃত্যুঞ্জয় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে ফিরেছিলেন কাঁধের ইনজুরি নিয়ে। দুজনেরই অস্ত্রোপচার দরকার ছিল। এই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তাদের নিয়ে দেবাশিস যান অস্ট্রেলিয়ায়। মেলবোর্নে দুজনেরই সফল অস্ত্রোপচার হয়। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে তারা দেশে ফিরে ঢুকে পড়েন যার যার ঘরে। ১৪ দিনের আগে বের হবেন না। ৬টি টেস্ট খেলা ২৪ বছরের বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সাদমানের কাছে বড় স্বস্তি হাতের অস্ত্রোপচার। হোম কোয়ারেন্টাইনের ব্যাপারটা ‘সচেতনতামূলক’ মেনে নিজের বাড়িতে নিজেকে বন্দি করেছেন। ‘আপাতত বাড়ি থেকে বের হচ্ছি না। ১৪ দিন এভাবেই কাটাতে হবে।’ বলছিলেন সাদমান।

মৃত্যুঞ্জয় ওই চোটের কারণে বিশ্বকাপ শেষ করতে পারেননি। অবশ্য সতীর্থদের বরণ করে নিতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। তার কাছে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে হোম কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। বলেছেন, ‘ফিরে এমনিতে বাসাতেই থাকতে হতো।’

এদিকে ডাক্তার দেবাশিস বলেছেন, ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানে তো সচেতনতার ব্যাপার।’ তার বাড়িতে অবশ্য তিনি একা নন, দুজন হোম কোয়ারেন্টাইনে। ‘আমার ছেলে পড়াশোনা করে ইংল্যান্ডে। সেও ফিরেছে।’ দেবাশিস বলছিলেন, ‘এখন ও আর আমি দুজনই হোম কোয়ারেন্টাইনে আছি।’

ফিরতে হয় দুই ক্রিকেটারের কথায়। কবজির সমস্যা নিয়েও সাদমান গেল নভেম্বরে ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলে এসেছেন। ভালো করতে পারেননি। বিপিএল মিস করেছেন। আর পেসার মৃত্যুঞ্জয় ক্যারিয়ারের শুরুতেই অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে গেলেন। কবে নাগাদ মাঠে ফিরতে পারবেন এই দুজন?

‘৪ সপ্তাহ পর ওদের ফিজিওথেরাপি দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে অন্যান্য ট্রেনিং সূচিও দেওয়া হবে।’ দেবাশিস জানাচ্ছিলেন, ‘গেল ১৬ তারিখে অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসক-থেরাপিস্টরা ওদের দেখেছেন। ওরা জানিয়েছেন, সব ঠিক আছে।’ অবশ্য দুজনার মাঠে ফিরতে বেশ সময় লাগবে বোঝা যাচ্ছে, ‘তিন মাস পর বোঝা যাবে।’

বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে সাদমান ও মৃত্যুঞ্জয় প্রথম যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে গেছেন। ক্রীড়াঙ্গনের চিকিৎসকের মধ্যে দেবাশিস প্রথম। অবশ্য বিসিবির একজন পরিচালকও হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। তিনি সিসিডিএমের চেয়ারম্যান কাজী এনাম। দু’দিন আগে ব্যাংকক থেকে ফিরেছেন। স্বেচ্ছাবাসের ১৪ দিনে থাকায় আগের দিনের ঢাকা লিগের বৈঠকে থাকতে পারেননি। এদিকে বিসিবিতে আজ দুপুর ১২টায় করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতনতামূলক একটি সেমিনার হবে। বিসিবির আয়োজন। মাঠকর্মীদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রমও থাকবে।

এখন অবশ্য বিশ্বের সব জায়গার মতো বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনও স্থবির। করোনাভাইরাসের কারণে ক্রিকেটও বন্ধ। বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের প্রথম রাউন্ডের পরই খেলা বন্ধ। প্রথম ৫ রাউন্ড পর্যন্ত আপাতত স্থগিত। অবশ্য এখনো ঠিক বোঝা যাচ্ছে না কবে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। সবকিছু স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত খেলোয়াড়দেরও কোনো কাজ থাকছে না।