করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২৯৫৫

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ক্রমে বেড়েই যাচ্ছে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওমিটারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৮৬টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৮৯৩। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৮৬ হাজার ৯৫৪। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৩ হাজার ৬১৭ জন।

চীনের পর সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত হয়েছে ইতালিতে। দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৪৭ হাজার ২১। চীনকে ছাড়িয়ে সেখানে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩২। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫ হাজার ১২৯ জন।

ইরানে ২০ হাজার ৬১০ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ১ হাজার ৫৫৬ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭ হাজার ৬৩৫ জন। শনিবার এক দিনে দেশটিতে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে ইউরোপের দেশ স্পেনে করোনায় আক্রান্ত মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩২৬। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ হাজার ৯২৬। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ২ হাজার ১২৫ জন। আর শনিবার দেশটিতে এক দিনে ২৩৩ জনের মৃত্যু হয়।

এ ছাড়া শনিবার জার্মানিতে ৫, যুক্তরাষ্ট্রে ২০, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৮, সুইজারল্যান্ডে ২, নেদারল্যান্ডসে ৩০, বেলজিয়ামে ৩০, অস্ট্রিয়ায় ২, সুইডেনে ৪, ডেনমার্কে ৪, পর্তুগালে ৬ ও মালয়েশিয়ায় ৫ জনের মৃত্যু হয়। তবে মৃত্যু ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে শনিবার নতুন করে ৪৫০ ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

ভারতে শনিবার সকাল পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২২৩। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভাইরাসের সংক্রমণ দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় ধাপে পৌঁছার আশঙ্কায় সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, আক্রান্ত ২২৩ জনের মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যা ১৯১। তালিকায় ৩২ জন বিদেশি রয়েছেন। ইতিমধ্যেই ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। একজন মহারাষ্ট্রে, একজন দিল্লিতে, একজন কর্ণাটকে, একজন পাঞ্জাবে ও একজন ইতালীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে রাজস্থানে।

দেশটির করোনা আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে ২৩ জন। তাদের মধ্যে দিল্লিতে পাঁচ, উত্তর প্রদেশে নয়, কেরালায় তিন, রাজস্থানে তিন, কর্ণাটক, তামিলনাড়– ও তেলঙ্গানায় একজন করে সুস্থ হয়ে উঠেছে।

এদিকে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে জনগণের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে কারফিউ জারি করেছে জর্ডান। গত শুক্রবার দেশটির সরকার জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জনগণের চলাচল নিষিদ্ধ করে এই কারফিউ জারি করে। সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশটির স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জারি থাকবে। টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে মুখপাত্র আমজাদ আদাইলেহ বলেন, এর আগে রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা জারির ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে এই কারফিউ জারি করা হয়েছে। জরুরি অবস্থা জারির ফলে সেনানিয়ন্ত্রিত কারফিউ ও অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণের পথ সুগম হয়েছে।

তিউনিসিয়ায় করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে সাধারণ লকডাউন জারি করা হয়েছে। এর ফলে মানুষের অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হবে। গত শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট এই ঘোষণা দিয়েছেন। উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৫৪ জন আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে একজনের। এরই মধ্যে দেশটি ক্যাফে, রেস্তোরাঁ ও মসজিদ বন্ধ ঘোষণা করেছে।

চীন করোনাভাইরাসের টিকা পরীক্ষামূলকভাবে দেওয়া শুরু করেছে। গত শুক্রবার চীনা স্বেচ্ছাসেবীদের কভিড-১৯-এর টিকা দেওয়া হয়। চীনের সামরিক বিজ্ঞানীরা এ টিকা তৈরি করেছেন বলে গতকাল শনিবার দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চীনা গণমুক্তি ফৌজ সামরিক চিকিৎসা অ্যাকাডেমির একটি গবেষণা দল এ টিকা বের করেছে। গবেষণা দলের নেতৃত্ব দেন জৈব হুমকি প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণবিষয়ক বিশেষজ্ঞ চেন উই। ইবোলার টিকা তৈরির সফলতার ভিত্তিতে কভিড-১৯-এর টিকা তৈরির কাজ করা হয়। এ জন্য স্থানীয় কয়েকটি কোম্পানির সহায়তা নেওয়া হয়েছে।

চীনা স্বেচ্ছাসেবীদের প্রথম দলের সবাই উহানের অধিবাসী এবং তাদের বয়স ১৮ থেকে ৬০। প্রথম দলকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং প্রতি ভাগে ৩৬ জন করে সদস্য রয়েছেন। টিকা দেওয়ার পর ১৪ দিন তাদের সঙ্গরোধ বা কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। এরপর টিকার জন্য তাদের শরীরে কোনো খারাপ বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় কি না তা নির্ণয়ের জন্য গবেষকরা ছয় মাস তাদের ওপর নজর রাখবেন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনা ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ১১ মার্চ পৃথিবীব্যাপী মহামারী ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

ওয়ার্ল্ড ওমিটারের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চীনে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৮১ হাজার ৮ জন। এদের মধ্যে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ২৫৫ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭১ হাজার ৭৪০ জন।