চীনা মডেলই আদর্শ

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চীনের লড়াইকে আশার আলো হিসেবে দেখছেন বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান। গত চারদিনে চীনে নতুন করে মাত্র একজন স্থানীয় ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। কেন্দ্রশাসিত চীনের করোনা প্রতিরোধী মডেল পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলো অনুসরণ করতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

গত জানুয়ারিতে হুবেই প্রদেশের উহান শহরকে বন্ধ করে দেয় চীনা কর্তৃপক্ষ। এর ফলে উহানের এক কোটি দশ লাখসহ হুবেইয়ের পাঁচ কোটি মানুষ রাতারাতি বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। দুই সপ্তাহ বিচ্ছিন্ন করে রাখার পর উহানে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করে। মেলবোর্ন বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক শ্যারন লিউইনের মতে, বিচ্ছিন্ন করে ফেলার পদ্ধতি বেশ কার্যকরী।

সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্নতা ও ঘরে কোয়ারেন্টাইনে থাকার পদ্ধতি ধীরে ধীরে ইউরোপিয়ান দেশগুলো গ্রহণ করছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি রাজ্যও একই পথ অনুসরণ করছে। কিন্তু ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষণায় সতর্কতা জানিয়ে বলছে, চীনের ক্ষেত্রে এই কৌশল সফল হয়েছে। আর এর ফলে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে মূল্য চুকাতে হবে চীনকে। গবেষণায় আরও বলা হয়, ‘টিকা আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত এমন বিচ্ছিন্ন করে রাখার কৌশল সত্যিই চ্যালেঞ্জের বিষয়। আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করায় বিচ্ছিন্নতার কৌশল যদি শিথিল করা হয়, তবে আরও দ্রুত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

হুবেইয়ের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য চীনের অন্য প্রদেশগুলো থেকে ৪২ হাজার ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানো হয়। জরুরিভিত্তিতে চীন সরকার এমন পদক্ষেপ নেওয়ায় দেশটির অন্য প্রদেশগুলোতে করোনার সংক্রমণ হয়নি। তারপরেও চীনের তিন হাজার ৩০০ স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, এদের মধ্যে ১৩ জন মারা গেছেন।

ইউরোপের অন্যতম আক্রান্ত দেশ ইতালিতে ইতিমধ্যেই রেডক্রস তাদের বিশেষজ্ঞদের পাঠানো শুরু করেছে। তবে চীনে যেভাবে অল্প কয়েকদিনের মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণ করে আক্রান্তদের চিকিৎসা শুরু করা গেছে, ইতালির ক্ষেত্রে এমন কিছু এখনো দেখা যাচ্ছে না।

মাস্কের ব্যাপক ব্যবহার করোনার সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যে স্থানগুলোতে করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত করা গেছে। চীনে আপৎকালীন দিনে ১৬ লাখ মাস্ক তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া আবাসিক এলাকা, দোকান ও জনসমাগম বেশি হয় এমন এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র বসানোর ফলে আক্রান্তদের শনাক্ত করা সহজ হয় চীনের জন্য। কারও শরীরের তাপমাত্র ৩৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলেই তাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়।