বৃদ্ধাশ্রমের বিছানায় পড়ে থাকছে লাশ

করোনাভাইরাসের দিনগুলোতে অনেক কিছুই বদলে গেছে, বদলে যাচ্ছে। বদলে গেছে মানুষও। বাস্তবতার মুখোমুখি মানুষগুলো কোথাও আতঙ্কিত, কোথাও লড়াকু। অনেক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ক্লান্ত ইতালি অশীতিপর মানুষগুলোকে হাসপাতালে না ‘টেনে’ বাসায়ই ফেলে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। আর এবার খবর প্রকাশিত হলো স্পেনের বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে অবহেলায় পড়ে থাকা লাশের খবর।

বিবিসি বলছে, করোনাভাইরাস মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তারত স্পেনের সেনারা অবসরপ্রাপ্তদের কেয়ার হোমগুলোর বেশ কয়েকজন বাসিন্দাকে তাদের বিছানায় মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে ও বেশ কয়েকজন বয়োবৃদ্ধ রোগীকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পেয়েছেন। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এমনটি জানানোর পর ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে ইতালির পর ইউরোপের সবচেয়ে বিপর্যস্ত দেশ স্পেন কেয়ার হোমগুলো জীবাণুমুক্ত করার জন্য সামরিক বাহিনী নিয়োগ করেছে। বিবিসি জানায়, স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্গারিতা রবলেস বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল তেলেসিঙ্কোকে বলেছেন, ‘অবসরকালীন হোমে বয়স্ক ব্যক্তিদের সঙ্গে যে রকম আচরণ করা হচ্ছে তা নিয়ে কঠোর ও অনমনীয় হবে সরকার। নির্দিষ্ট কিছু কেয়ার হোম পরিদর্শনে গিয়ে সেনাবাহিনী কিছু বয়স্ক ব্যক্তিকে পুরোপুরি পরিত্যক্ত অবস্থায় এমনকি কয়েকজনকে তাদের বিছানায় মৃত অবস্থায়ও পেয়েছে।

 দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর কিছু কেয়ার হোমের কর্মীরা কর্মস্থল ছেড়ে গেছেন বলেই এমন অবস্থা হয়েছে।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এসব কেয়ার হোমের মৃত বাসিন্দাদের দেহগুলো শেষকৃত্যের জন্য সংগ্রহ না করা পর্যন্ত কোল্ড স্টোরেজে রাখা হয়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দিনে আতঙ্কে এসব মৃতদেহ তাদের বিছানায়ই রেখে দেওয়া হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে রাজধানী মাদ্রিদে, এখানে ওই ধরনের লাশ সরিয়ে নিতে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মাদ্রিদে সংকট ঘনীভূত হওয়ায় নগর কর্র্তৃপক্ষের দাফন দপ্তর জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সুরক্ষা উপকরণ না থাকায় মঙ্গলবার থেকে তারা কভিড-১৯-এ মারা যাওয়া রোগীদের লাশ সংগ্রহ বন্ধ রাখবে।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত স্পেনে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে। মারা গেছে অন্তত ২ হাজার ৮০০ জন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ জন।