করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মাদারীপুর শহর, সদর উপজেলা, শিবচর, রাজৈর ও কালকিনি উপজেলার সকল ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
একই সঙ্গে মাদারীপুরের সঙ্গে আশপাশের জেলা ও উপজেলার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান সুমন সকল নাগরিককে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করেছেন। এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ করেছেন। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র চালু করেছেন। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে এ সকল কাজের তদারকি করছেন।
মুস্তাফিজুর রহমান সুমন বলেন, আমাদের বাঁশগাড়ি ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোন রোগী পাওয়া যায়নি। তবে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আমরা বেশ কিছু কাজ করে যাচ্ছি। যাতে করে ইউনিয়নবাসী করোনা মোকাবিলায় সচেতন হতে পারে।
রাজৈর উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শাহাদাৎ হোসেন স্বপ্রণোদিত হয়ে তার ইউনিয়নের সকল দোকান, যানবাহন চলাচল বন্ধসহ সকল মানুষকে ঘরে থাকার জন্য এবং অন্যকোন এলাকা থেকে যাতে কোন লোক প্রবেশ করতে না পারে সে ঘোষণা দিয়েছেন।
বুধবার বিকেল পর্যন্ত মাদারীপুরে হোম কোয়ারেন্টাইনে ৩২৩ জন এবং হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩ জন। সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে আছে ৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে ২৫ জন। এ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে রিলিজ পেয়েছেন ৩৪১ জন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন অফিস।
মাদারীপুর শহরের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বুধবার সকাল থেকে দ্বিতীয় দিনের মত বন্ধ রয়েছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া কোন মানুষকেই ঘর থেকে বের হতে দেখা যায়নি। বন্ধ রয়েছে শহরের সকল প্রাইভেট হাসপাতাল।
জেলা পুলিশের একাধিক টিমকে রাস্তায় টহল দিতে দেখা গেছে। মাদারীপুরের সঙ্গে আশপাশের জেলা ও উপজেলার সকল বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এ ছাড়া শিবচরের ৪টি এলাকা ষষ্ঠ দিনের মতো অবরুদ্ধ রয়েছে। অবরুদ্ধ এলাকাগুলো হলো- শিবচর পৌরসভার ২টি ওয়ার্ড, পাঁচ্চর ইউনিয়নের একটি গ্রাম ও দক্ষিণ বহেরাতলা ইউনিয়নের একটি গ্রাম। বুধবার সকাল থেকে তৃতীয় দিনের মত এসব গ্রামের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা পরিবার ও নিম্ন আয়ের মানুষের বাড়িতে প্রত্যেক পরিবারকে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, লবণ, সাবান ও ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বিতরণ করেছে শিবচর উপজেলা প্রশাসন।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে তৃতীয় দিনের মত কালকিনি উপজেলার প্রায় সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শুধু নিত্য প্রয়োজনীয় ও ওষুধের দোকান খোলা রয়েছে। এ ছাড়া করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে মাদারীপুরের সঙ্গে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সকল সীমান্তবর্তী সংযোগ সড়ক সাময়িক বন্ধ রয়েছে।
করোনাভাইরাস আতঙ্কে রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বন্দরসহ বিভিন্ন হাটবাজারের বেশির ভাগ দোকান বুধবার সকাল থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, জেলার সকল বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। শহরের লেকপাড়ে জনসমাগম না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে মানুষের সচেতন হওয়া খুব জরুরি। আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে মানুষকে সচেতন করার জন্য। বিশেষ করে, যারা বিদেশফেরত তাদের অবশ্যই হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। সরকারি নির্দেশনা সকলকে মেনে চলতে হবে।