বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে মার্চ মাসের বেতন অগ্রিম চেয়েছিলেন বেতনভুক্ত ক্রিকেটাররা। বিসিবিও সাড়া দিয়েছে। ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও তার পূর্বসূরি অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার নেতৃত্বে ক্রিকেটাররাও আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। বেতনের ৫০ শতাংশ বা অর্ধেক টাকা অনুদান হিসেবে দিয়ে একটি তহবিল গঠিত হলো। প্রায় ২৫ লাখ টাকা দিয়ে শুরু হলো করোনার বিরুদ্ধে ক্রিকেটারদের লড়াই।
বিসিবির বেতন কাঠামোয় আছেন ১৭ জন। নিজে থেকে বেতন কাঠামো থেকে সরে যাওয়া মাশরাফীসহ আরও ১০ জন যারা মার্চের বেতন পাবেন বা সম্প্রতি জাতীয় দলে খেলেছেন তারাও গ্রেড অনুযায়ী অনুদানে যোগ দিয়েছেন। এই মহতী উদ্যোগের সঙ্গে আরও বেশি ক্রিকেটারকে যোগ করে তহবিলকে আরও বড় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। উদ্যোগটা তামিম-মাশরাফীদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। টাকাটা তারা কোথায় দেবেন তা ঠিক করা হবে শিগগিরই।
তামিম তার ফেইসবুক পেইজে এই উদ্যোগ সম্পর্কে লিখেছেন, ‘আমরা ক্রিকেটাররাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাভাবে চেষ্টা করছি সবাইকে সতর্ক ও সচেতন করার। তবে আমরা মনে করছি, শুধু সচেতন করাই যথেষ্ট নয়, এই দুর্যোগের সময় আমাদের আরও কিছু করার আছে।’ তিনি লিখেছেন, ‘বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে ১৭ জন ক্রিকেটারকে রাখা হয়েছে এবং জিম্বাবুয়ে সিরিজসহ সম্প্রতি জাতীয় দলে খেলেছে, এমন আরও ১০ জন, সব মিলিয়ে ২৭ ক্রিকেটার এক মাসের বেতনের ৫০ শতাংশ দিয়ে আমরা সহায়তা করছি। কর কেটে রাখার পর মোট থাকবে ২৫ লাখ টাকার কিছু বেশি।’
মাশরাফী তার ফেইসবুক প্রোফাইলে ২৭ ক্রিকেটারের গ্রেড অনুযায়ী বেতন ও এর ৫০ শতাংশের একটা তালিকা দিয়েছেন। ‘বিশেষ ধন্যবাদ খান সাহেবকে (তামিম) ’ লিখে শেষ করার আগে মাশরাফী লিখেছেন, ‘সাধুবাদ দেশের ৩ অধিনায়ককে। মুমিনুল-টেস্ট, তামিম-ওয়ানডে, রিয়াদ-টি-টোয়েন্টি। প্রশংসা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য। ছেলেরা, বাংলাদেশের অসাধারণ সেবক ছেলেরা, তোমাদের ভালোবাসি।;
গতকাল প্রায় একই সময়ে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা তাদের এই অনুদান ও তহবিল গঠন নিয়ে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তারা মূলত এর মাধ্যমে আরও অনেক মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে চেষ্টা করছেন। সাবেক অধিনায়ক ও দেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম যেমন তার অফিশিয়াল পেইজে লিখেছেন, ‘এই তহবিল ব্যয় হবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত ও সাধারণ মানুষদের জন্য যাদের গৃহবন্দি থাকা অবস্থায় জীবন চালিয়ে নিতে অনেক কষ্ট হয়।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমাদের এই উদ্যোগ হয়তো যথেষ্ট নয়। বৃহৎ পরিসরে যদি আরও অনেকে এগিয়ে আসেন তাহলে আমরা এই লড়াইয়ে জিততে পারব ইনশাল্লাহ। সেই সহায়তা হতে পারে ১০০, ৫০০০ কিংবা ১ লাখ টাকা দিয়ে।’
ক্রিকেটারদের অনেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে করোনার বিরুদ্ধে লড়ছেন। তার অনেক কিছু তারা গোপন রাখেন। সাধারণ্যে আনেন না। ওপেনিং ব্যাটসম্যান-উইকেটকিপার লিটন কুমার দাসও স্ত্রী সঞ্চিতাকে নিয়ে তেমন ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়েছেন। আর সমন্বিত উদ্যোগের প্রসঙ্গে তার ফেইসবুক পেইজে লিখেছেন, ‘সেই সহায়তা হতে পারে ১০০, ৫০০০ কিংবা ১ লাখ টাকা দিয়ে। টাকা দিয়ে না হোক, হতে পারে দুস্থ মানুষকে খাবার কিনে দিয়ে। আসুন পুরো দেশকে আমরা একটা পরিবার ভেবে চিন্তা করি এবং এই বিপদে সবাই সবাইকে সহায়তা করি।’ এর সঙ্গে সবার একই আহ্বান, ‘সচেতন থাকুন। ঘরে থাকুন।’
নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিমের আকুতি, ‘বিন্দু বিন্দু জল মিলেই হয়ে ওঠে মহাসাগর। আমরা সবাই যদি নিজেদের জায়গা থেকে চেষ্টা করি, যত ছোট অবদানই হোক, সবাই মিলে সেটিই বড় হয়ে উঠবে।’ তামিমের ডাক, ‘চারপাশের সবার সমালোচনায় মেতে না থেকে আমরা যদি নিজেরা দায়িত্ব নেই ও নিজেদের সাধ্যমতো অবদান রাখি, তাহলেই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে আমাদের জয় সম্ভব।’