২১ দিনের লকডাউন চলছে সারা ভারতে। কিন্তু এই সময়ে খাদ্যপণ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জোগান অব্যাহত রাখাই নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বুধবার রেশন দোকানের মাধ্যমে মাথা পিছু ২ কেজি করে বাড়তি চাল বা গম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের দাবি, এতে ৮০ কোটি মানুষ উপকৃত হবে।
মঙ্গলবার রাতে মোদি লকডাউন ঘোষণার পরেই ভারত জুড়ে আতঙ্ক ছড়ায়। জিনিস কিনতে দোকানে ভিড় জমায় জনতা। পরদিন মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর বলেন, “আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটার প্রয়োজন নেই। ২১ দিনই খাদ্য ও প্রয়োজনীয় জিনিসের সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।’’
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, খাদ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের জোগান অব্যাহত রাখার ওপরে দেশের গরিব মানুষ, দিনমজুর এবং চাষিদের ভাগ্যও জড়িয়ে আছে। সেখানে সমস্যা মূলত তিনটি।
এক, এখন রবি ফসল কাটার সময়। কিন্তু লকডাউনের জেরে মাঠের ফসল মাঠেই পড়ে আছে। ফসল কাটার মজুরও মিলছে না। কিছু ফসল কাটা হলেও চাষিরা বেচতে পারছেন না। ফলে ফসল নষ্টের আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে খাদ্যশস্যের জোগানে টান পড়বে।
দুই, লকডাউনের জেরে কাজ বন্ধ হওয়ায় শহরের দিনমজুরদের রুটিরুজিতে টান পড়েছে। তারা নিজেদের গ্রামে ফিরতে চাইছেন। কিন্তু নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের জোগান বজায় রাখতে শ্রমিকদের দরকার হবে।
তিন, লকডাউনের জেরে গ্রামে একশো দিনের কাজও প্রায় বন্ধ। ফলে শহর থেকে গ্রামে ফেরা শ্রমিকদেরও সুরাহা হচ্ছে না।
এ দিকে কংগ্রেস ফের দাবি তুলেছে, তাদের ঘোষণা করা ‘ন্যায়’ প্রকল্পের পথে হেঁটে গরিবদের নগদ সাড়ে ৭ হাজার রুপি করে দেওয়া হোক। রাহুল গান্ধী বলেন, “দিনমজুরদের এখনই সহায়তা চাই। ওদের অ্যাকাউন্টে নগদ দেওয়া হোক। ব্যবসা থমকে যাওয়ার কারণে কর ছাড়, আর্থিক সহায়তা দেওয়া হোক, যাতে কারো চাকরি না যায়। গরিবদের ফ্রি রেশন দেওয়া হোক।”
বিনা পয়সায় রেশনের বন্দোবস্ত না হলেও মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, খাদ্য সুরক্ষা আইনে মাসে মাথাপিছু ৫ কেজির বদলে ৭ কেজি খাদ্যশস্য দেওয়া হবে। ২ রুপি কেজি দরে গম, ৩ রুপি কেজি দরে চাল মিলবে। রাজ্যগুলো আগাম তিন মাসের খাদ্যশস্য মজুদ থেকে তুলতে পারবে। কিন্তু কেন্দ্র গরিবদের হাতে সরাসরি টাকা তুলে দেবে কি-না, সে প্রশ্নের জবাব মেলেনি।