করোনাভাইরাসের চরম ঝুঁকিতে থাকা মাদারীপুর শহর, সদর উপজেলা, কালকিনি, রাজৈর ও শিবচর উপজেলাসহ জেলার সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ও দূর পাল্লার সকল বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। রাস্তাঘাট মানুষ শূন্য হয়ে পড়েছে।
খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘর থেকে বের হতে দেখা যায় না। জেলার সকল মানুষই নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করছে। বলা চলে মাদারীপুর এখন অঘোষিত লক ডাউনে পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কসহ জেলার আশপাশের সড়কে কোন দূরপাল্লার ও ভারী যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি এবং সাধারণ জনগণকে তেমন চলাচল করতে দেখা যায়নি। সাধারণ জনগণ গৃহবন্দী হয়ে অলস জীবনযাপন করছে।
এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে জেলা প্রশাসন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া মাদারীপুর পৌরসভাসহ বিভিন্ন সংগঠন করোনাভাইরাস রোধে ব্যাপক কাজ করছে বলে জানা গেছে।
গণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে খাদ্য সামগ্রী, ওষুধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দোকানপাট, কাঁচাবাজার, হাসপাতাল বাদে সব বন্ধ করেছে জেলা প্রশাসন। গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয় যে, প্রয়োজন ব্যতীত কোন ভাবেই বাড়ির বাইরে না আসেন।
মাদারীপুরে আইসোলেসনে আছে ৩ জন ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩ জন। বর্তমানে সর্বমোট ৩৭৬ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে। যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৮৪ জন আছে। জেলায় এ পর্যন্ত মোট ৭৪৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইন দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে ৩৭২ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে মুক্ত করা হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, দেশে এখন করোনাভাইরাসের দুর্যোগ চলছে। করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়িয়ে চলার জন্য রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল নেই বললেই চলে। মানুষ যদি সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে চলে তা হলে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।