বিশ্বজুড়ে কয়েক লাখ মানুষ করোনাভাইরাস আতঙ্কে তাদের অফিস ত্যাগ করেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসা থেকে কাজ করার আদেশ দিয়েছে সরকারগুলো। বহুজনের সমাগমস্থল হিসেবে অফিসে যাতে ভাইরাসটি ছড়াতে না পারে, সেজন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতি মৌসুমেই কোনো না কোনো জীবাণু বের হচ্ছে। অফিসে বছরজুড়েই কেউ না কেউ হাঁচি-কাশি দেয়। এর মাধ্যমে ভাইরাস সহকর্মীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। এমন চক্র চলতেই থাকে। তারা গবেষণা করে দেখিয়েছেন, কোন কোন বাগ, জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া খুব সহজে অফিস থেকে আমাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
নর্থ ক্যারোলিনা স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্সের গবেষণা ও কৌশলগত পদক্ষেপের প্রধান ক্রিসি হেউইট অফিসে মাইক্রোবায়াল জীবনের বৈচিত্র্য ও প্রাচুর্য নিয়ে গবেষণা করেছেন। তার মতে, ‘মানুষ তার দিনের একটা বড় সময়ই অফিস নামক কফিনে থাকে। এখানে অনেক মানুষ একটা নির্দিষ্ট স্থানকে ভাগাভাগি করে নির্দিষ্ট সময় ধরে কাজ করে। ফলে গোটা জায়গার বায়ুতে অসংখ্য জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে।’
অন্যভাবে বলতে গেলে, আমাদের অফিসে এমন অনেক জায়গা আছে, যেখানে অনেক মানুষ স্পর্শ করে সেখান থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে যেতে পারে। যত সহকর্মী ওই স্থান স্পর্শ করবে, ততই দূষিত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। আরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব পাবলিক হেলথের গবেষক জোনাথন সেক্সটনের মতে, রেফ্রিজারেটর, দরজার হাতল, কলের চাবি, কফিপট ও বের হয়ে যাওয়া দরজার হাতলগুলো থেকে সবচেয়ে বেশি জীবাণুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং দ্রুত ছড়ায়।
২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের করা এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, দেশটির অফিসকর্মীদের মধ্যে মাত্র ৬১ শতাংশ হাত ধোয়ার ব্যাপারে সচেতন। তারা সাবান ও গরম পানি দিয়ে হাত ধোয় টয়লেট শেষে। নোংরা আঙুল বা ডেস্কের চেয়েও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি বাতাসের মাধ্যমে। অফিসের একজন অসুস্থ ব্যক্তি তার হাঁচি ও কাশি এবং নিকটবর্তী সহকর্মীদের স্পর্শের মাধ্যমে সংক্রমিত করতে পারেন। এমনকি ডেস্ক থেকে অন্য কোথাও না গিয়েও শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির নাক ও মুখ থেকে বের হওয়া এক কণা পানিও বাতাসের মাধ্যমে অন্যদের সংক্রমিত করতে পারে।
এখন অনেকেই বাসায় নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের মধ্যে থেকে কাজ করছেন। ফলে তাদের অবাঞ্ছিত স্পর্শ, হাঁচি-কাশির মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। তারপরও তাদের সতর্ক হওয়া উচিত বলে মনে করেন ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্টিফিক ফোরাম অন হোম হাইজিনের ডেপুটি চেয়ার লিসা অ্যাকারলি। তার মতে, বাসা-বাড়িতে কোনো কারণ ছাড়া ভাইরাসের সংক্রমণ হয় না। বাইরে থেকে মানুষই ভাইরাস নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে।