শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও নারায়নপুর ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান হাজী মো. সালাউদ্দিন মাতুব্বরকে (৫৪) রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন তালুকদারের (৫৪) বিরুদ্ধে।
শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে উপজেলার ইকরকান্দি খানবাড়ি জামে মসজিদের সামনে এ হামালার ঘটনা ঘটে।
আহত হাজী মো. সালাউদ্দিন মাতুব্বর নারায়নপুর ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের ইকরকান্দি গ্রামের মৃত হাজী মো. ইউনুস মাতুব্বরের ছেলে।
তিনি নারায়নপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।
ভেদরগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নারায়নপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন তালুকদারের সঙ্গে ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও নারায়নপুর ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান হাজী মো. সালাউদ্দিন মাতুব্বরের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে।
তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সালাউদ্দিন মাতুব্বর ওই ইউনিয়নের ইকরকান্দি খানবাড়ি জামে মসজিদে মগরিবের নামাজ শেষে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথে মসজিদের সামনে চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন তালুকদার ও তার লোকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে নাজিম উদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে মফিজ তালুকদার (৪০), স্থানীয় ইউপি সদস্য রাজিব তালুকদার (৪০), অমি তালুকদারসহ ১২/১৪ লোক সালাউদ্দিন মাতুব্বরকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কিলঘুষি মেরে আহত করে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় সালাউদ্দিবন মাতুব্বর বাদী হয়ে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন।
আহত হাজী মো. সালাউদ্দিন মাতুব্বর বলেন, ২০১৬ সালে ইউনিয়ন নির্বাচনে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি বর্তমান চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন তালুকদারের ভাই মৃত নাসির উদ্দিন তালুকদারের সঙ্গে। সেই নির্বাচনে ভোট কারচুপির মাধ্যমে জয়ী হন নাসির উদ্দিন তালুকদার। সেখান থেকেই নাজিম উদ্দিন তালুকদার আমার উপর ক্ষিপ্ত। আজ একা পেয়ে আমার ওপর হামলা চালায় ওরা। আমি এই হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযুক্ত চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন তালুকদার বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে সালাউদ্দিন মাতুব্বর।
ইউনিআয়নের বাঔইকান্দি গ্রামের নিজাম মাঝির স্ত্রী হেনা বেগম (৪০) বলেন, টিউবওয়েল দেয়ার কথা বলে চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন তালুকদার আমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু টাকা নিয়ে টিউবওয়েল দেয়নি। গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে টাকা চাইতে গেলে আমাকে মারধর করে ওই চেয়ারম্যান। এ ঘটনায় ভেদরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছি। এখন আবার শুনি সাবেক চেয়ারম্যান সালাউদ্দিরন মাতুব্বরকেও মারধর করেছে।
ভেদরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে একটি মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।