ফেইসবুকসহ অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভুয়া সংবাদ বন্ধের বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন ছিল। গত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকর্তারা নির্বাচনেকন্দ্রিক ভুয়া সংবাদ মোকাবিলা নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন।
কিন্তু নভেল করোনাভাইরাস তাদের সামনে সম্পূর্ণ ভিন্ন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সম্পর্কে আগাম কোনো প্রস্তুতি ছিল না সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর। এ রোগের নিরাময়, ভুল মৃত্যু সংখ্যা দাবি, সাপের তেল বিক্রির বিজ্ঞাপন ও ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্বগুলো সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে।
বার্তাসংস্থা এএফপি করোনাভাইরাস সংক্রান্ত প্রায় ২০০টি গুজব সংবাদ চিহ্নিত করেছে। যদিও বিশেষজ্ঞদের মত, এমন ভুয়া সংবাদ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকেই এগিয়ে আসতে হবে। কারণ ভুয়া সংবাদগুলো মূলত অনলাইনেই সবচেয়ে বেশি ছড়াচ্ছে।
এমআইটি সোলান স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডেভিড র্যান্ড মনে করেন, ‘মানুষ সত্যিই কী চিন্তা করছে আর ইচ্ছাকৃতভাবে কোন সংবাদটা শেয়ার করতে চায়, এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। প্রকাশিত অনেক ভুয়া সংবাদ দেখে মানুষ প্রভাবিত হয়ে যাচ্ছে। অনলাইনের ভুয়া সংবাদ মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস করে দিচ্ছে।’
প্রায় ১ হাজার ৬০০ অংশগ্রহণকারীর ওপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ভুয়া সংবাদগুলো ছড়ায় কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানুষ বুঝতে পারে না কোন কনটেন্টটির ওপর আস্থা রাখা যায়। তবে দ্বিতীয় আরেক পরীক্ষায় দেখা গেছে, সঠিক সংবাদ ও সত্যি সচেতনতা বৃদ্ধির সংবাদ শেয়ার করার প্রবণতা মানুষের মধ্যে অনেক বেশি।
র্যান্ডের মতে, কিছু ব্যাপার থাকে যা মানুষকে সংবাদের নির্ভুলতার বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দেয়। সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর কোম্পানিগুলো একটা ব্যাপারে সতর্ক থাকে যে, সঠিক সংবাদ চিহ্নিতকরণের ফলে অনেক ব্যবহারকারী হয়তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। কারণ মানুষ যে সংবাদ দেখতে চায় না, তা তাকে জোর করে দেখালে বিরক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে। ইরানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের ভুয়া ওষুধ খেয়ে অন্তত ৩০০ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক জ্যাসন ম্যাকনাইটের মতে, করোনাভাইরাসের ঝুঁকির চেয়ে ভুয়া সংবাদ আরও ক্ষতিকর। এখনো এ ভাইরাসের কোনো কার্যকরী ওষুধ বা প্রতিষেধক বের হয়নি। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করোনার বহু ওষুধ ও নিরাময়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ফেইসবুক কর্র্তৃপক্ষ করোনাসম্পর্কিত ভুয়া সংবাদ ফিল্টার করা ছাড়াও সঠিক সংবাদকে দৈনিক শীর্ষ সংবাদের তালিকায় রাখতে চাইছে, যাতে মানুষ উপকৃত হতে পারে।